খেলা ডেস্ক: মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশ দলের ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়ের দুটি অপ্রয়োজনীয় শট নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে। দলের যখন শক্ত অবস্থানে থেকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা, ঠিক তখন তার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং দলকে বিপদে ফেলে। প্রথম ইনিংসে সেট হয়ে উইকেটে টিকে থাকার পরও তার একটি অদ্ভুত শট দেখে ক্রিকেটবোদ্ধারা বিস্মিত হন। অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের এমন শট খেলার কোনো যৌক্তিক ক্রিকেটীয় ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ফিফটির কাছাকাছি গিয়ে ৪২ রান করে বোল্ড হন হৃদয়, যা দলের ব্যাটিং ধসকে ত্বরান্বিত করে। এর পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি উইকেটে এসেই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাদমান ইসলামের বিদায়ের পর দলের রান বাড়ানোর বা প্রান্ত আগলে রাখার দায়িত্ব থাকলেও তিনি তা পালন করেননি। রস্টন চেইসের বলে অযৌক্তিকভাবে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে মিড অনে সহজ ক্যাচ দিয়ে তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও হৃদয়ের এমন শট নির্বাচন অনেকের মনেই বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দেড়শর কাছাকাছি ম্যাচ খেলার পরও টেস্টের মেজাজ বুঝতে তার এই ব্যর্থতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দারুণ রেকর্ড ও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ইনিংস খেলার সুবাদে তাকে নিয়ে প্রত্যাশা বেশ উঁচুতে ছিল। মুশফিকুর পরবর্তী মিডল অর্ডারে তাকে দলের অন্যতম ভরসা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
তবে এই টেস্টে তার শট দুটি দলের প্রত্যাশাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে এবং তার মেজাজ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতের কথা বাদ দিলেও, এই ম্যাচে তার ব্যাটিং ব্যর্থতা দলের জয় বা ভালো করার সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দুই ইনিংসে হৃদয়ের এমন অদ্ভুত আউটের ঘটনা কেবল দলের জয়রথকেই থামিয়ে দেয়নি, বরং তার নিজের ক্যারিয়ারের জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে রইল।




































