কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: পরিবেশগত প্রতিকূলতা এবং অবৈধভাবে মাছ আহরণের কারণে সুন্দরবনের অন্তত ছয় প্রজাতির মাছের মজুদ কমে গেছে। তবে মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় নয় প্রজাতির মাছের মজুদ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত একটি গবেষণায় সুন্দরবনের জলজ সম্পদের এই চিত্র উঠে এসেছে। বন অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত এই গবেষণায় মাছের বর্তমান অবস্থা ও মজুদ মূল্যায়ন করা হয়েছে। গবেষক দলের প্রধান ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. এম এনামুল হকের নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণাটিতে প্রথমবারের মতো ডিএনএ বারকোডিংয়ের মাধ্যমে নতুন কিছু প্রজাতিও শনাক্ত করা হয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, অলুয়া, পারশে, ভেটকি, পোয়া, দাতিনা, গ্যাগড়া টেংরা, পাঙ্গাস, হরিণা চিংড়ি এবং চাকা চিংড়ির মজুদ বাড়তির দিকে রয়েছে। অন্যদিকে পায়রা, নোনা টেংরা, কাইন মাগুর, গলদা চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি ও শীলা কাঁকড়ার মজুদ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সুন্দরবনে সার্বিকভাবে ২৬১ প্রজাতির মাছ পাওয়া গেছে এবং পূর্ববর্তী গবেষণা মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ৩৮২ প্রজাতির মাছের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে নতুন নথিভুক্ত সাতটি প্রজাতির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মাছ ও চিংড়ি। উপকূলীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো জলজ সম্পদের ওপর প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞরা সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, সাতক্ষীরা ও শরণখোলা অঞ্চলে নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির অতিরিক্ত আহরণ হচ্ছে এবং এসব এলাকায় মাছ ধরার চাপ কমাতে হবে। প্রজনন মৌসুমে মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা এবং জালের ফাঁসের ওপর বিধিমালা কঠোর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার এবং অবৈধভাবে রেণু বা পোনা সংগ্রহ মৎস্য সম্পদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বেআইনি কার্যক্রম বন্ধ করতে নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংগঠনের সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকার জন্য মাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা জরুরি। বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানিয়েছেন, গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর চূড়ান্ত কর্মশালা হবে এবং প্রাপ্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। গবেষকরা মনে করছেন, মানবসৃষ্ট চাপ ও বিষ দিয়ে মাছ মারা বন্ধ করা গেলে সুন্দরবনের মৎস্য উৎপাদন আরও স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে।





































