সারাদেশ ডেস্ক: অহিংস বিশ্ব বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী কবির-লালন ভাবসংগীত উৎসবের সমাপ্তি ঘটেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় লালন বিশ্বসংঘ আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানটি শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে আসা এই সাংস্কৃতিক যাত্রার শেষ আয়োজনে নানা বয়সের মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে ঢাকা এবং সিলেট অঞ্চলের শিল্পীরা তাদের পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে এই উৎসবটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে এই ভাবসংগীত উৎসবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে তা বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ এই যাত্রার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ। এছাড়া অনুষ্ঠানে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাশ বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন। লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও গবেষক আবেদল মান্নান এই সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ বলেন, নতুন প্রজন্মের মাঝে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সত্য ইতিহাসবোধ ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তরুণ সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা রুখতে দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক জাগরণ গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কবি ও লালন ফকিরের কালজয়ী ভাবাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই যুবসমাজকে মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অনিরুদ্ধ দাশ জানান, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানবতা, সহানুভূতি ও আধ্যাত্মিক চিন্তার এক অপূর্ব মহামিলন ঘটেছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কৃতিখাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই উৎসবের আয়োজন সেই ধারাবাহিকতাকেই প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সভাপতির বক্তব্যে আবেদল মান্নান বলেন, লালন ও কবির মানবতাবাদী দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তাদের দর্শন চর্চার মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিক চেতনা ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা থেকে আগত কবির-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা ভাবসংগীত পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। পাশাপাশি সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন চা-বাগানের শ্রমজীবী কবিরপন্থি ও রবিদাস সম্প্রদায়ের শিল্পীরাও তাদের ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই উৎসব দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাংস্কৃতিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।





































