আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান দ্বন্দ্ব অবসানের মধ্যস্থতা উদ্যোগে ইতিবাচক অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সামরিক বাহিনী এই শান্তিপ্রচেষ্টা নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী রয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানান।
তিনি জানান যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির চলতি মাসে দুবার ইরান সফর করেছেন। কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা না থাকলে তিনি এই অল্প সময়ে কেন দুবার তেহরান সফর করতেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী হলেও পাকিস্তান সার্বिक বিষয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে।
সাম্প্রতিক এই সফরে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনও উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই মিলে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বৈঠকটি ইতিবাচক হয়েছে বলে জানানো হয়। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই উল্লেখ করেন যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় বাইরের হস্তক্ষেপ বাদ দিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থগিত আলোচনা পুনরায় চালুর লক্ষ্যেই পাকিস্তান এই কূটনৈতিক মধ্যস্থতা পরিচালনা করছে। এর আগে ইসলামাবাদর উদ্যোগে এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী কোনো সমঝোতা অর্জিত হয়নি। গত ২৬ অক্টোবর ইরান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বাড়াতে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হয়।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও নৌনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মাঝে আঞ্চলিক এই উদ্যোগগুলো কূটনৈতিক সমাধানের পথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আইএসপিআরের মহাপরিচালক সতর্ক করে বলেছেন যে এই শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত করার জন্য কিছু শক্তিশালী পক্ষ এখনও বাধা সৃষ্টি করতে পারে।




































