আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেইনের কাছে ৫০০টি অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের এই চুক্তির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২১০ কোটি মার্কিন ডলার। ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ও কানাডার অর্থায়নে এই সমরাস্ত্র কেনা হচ্ছে, যার ফলে ওয়াশিংটনের নিজস্ব কোনো অর্থ খরচ হবে না। এই চুক্তির মূল ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইউরোপে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইউক্রেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশীদার। এই সমরাস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে কিইভের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যও এগিয়ে যাবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঋণ এবং কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অনুদান ও জাতীয় তহবিল থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হবে।
ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন যে এসব সমরাস্ত্র হাতে পৌঁছাতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। আসন্ন শীতের আগে ইউক্রেইনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে মস্কো আক্রমণ জোরদার করেছে এবং গত দুই সপ্তাহে বিদ্যুৎ গ্রিডে ৩০টির বেশি রুশ হামলা হয়েছে। কারখানায় নতুন করে প্যাট্রিয়ট তৈরির প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক মজুদ সীমিত থাকায় দ্রুত এই চালান পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এর আগে ইউক্রেইনের নিজস্ব মজুদ আশঙ্কাজনক পর্যায়ে নেমে আসায় জেলেনস্কি দ্রুত এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের তাগিদ দিয়েছিলেন। সম্প্রতি মার্কিন নেতৃত্ব নিয়ে কিছু টানাপড়েন ও রাজনৈতিক আলোচনার পর এই ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির ঘোষণা এল। ক্রাইমিয়া দখলের পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেইনে পূর্ণাঙ্গ সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে আসছে রাশিয়া, যা প্রতিহত করতে প্যাট্রিয়টকে অন্যতম কার্যকর সমরাস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।




































