ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ‘আগামী অধিবেশনেই পাস হবে সৌরবিদ্যুৎ আইন’ Logo সরকার পতন আন্দোলনের হুমকি জামায়াত আমিরের Logo ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, আঘাত হানবে কোথায়? Logo ‘পিছিয়ে থাকা’ ৩ পার্বত্য জেলা আর লম্বা পরীক্ষায় ফল খারাপ চট্টগ্রামে! Logo ‘এবারের এইচএসসির ফলাফলই প্রকৃত চিত্র, বিএনপি সরকারকে সাধুবাদ’ Logo এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ, সুযোগ পাবেন যারা Logo ভালো উদ্যোগগুলো অনেক ক্ষেত্রে সংবাদে যথাযথভাবে উঠে আসে না: গণপূর্তমন্ত্রী Logo পিআরএবির সভাপতি ইয়াহিয়া, সম্পাদক নজরুল Logo লংমার্চ বাদ দিয়ে সংবিধান সংস্কারে আলোচনায় বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo ‘আবু খালেদ পাঠান সাহিত্য পুরস্কার’ পেলেন আনোয়ার-মাসুম

‘পিছিয়ে থাকা’ ৩ পার্বত্য জেলা আর লম্বা পরীক্ষায় ফল খারাপ চট্টগ্রামে!

শিক্ষা ডেস্ক: সম্প্রতি প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে এই বোর্ডে ধারাবাহিক অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র বাহান্ন শতাংশের কিছু বেশি এবং দুই হাজারের মতো শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলা, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা এবং তিন পার্বত্য জেলার পিছিয়ে পড়া ফলাফল এই সামগ্রিক বিপর্যয়কে ত্বরান্বিত করেছে।

বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছর দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও মনোযোগ ব্যাহত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে গত জুলাই মাসে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর কার্যক্রম শেষ হতে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত গড়ায়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক পড়াশোনার ছন্দপতন ঘটে এবং তারা মানসিক ক্লান্তির মুখে পড়ে। এছাড়া, দীর্ঘদিন পর এবারই প্রথম শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ সিলেবাসের ওপর অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়, যা অনেকের জন্যই বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল।

উত্তরপত্র মূল্যায়নে নতুন রুবিক্স পদ্ধতি অনুসরণ করার কারণে প্রকৃত ফলাফল সামনে এসেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা—এই চার ধাপে শিক্ষার্থীদের উত্তর লেখার কথা থাকলেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত মান বজায় রাখতে পারেনি। বিশেষ করে পার্বত্য জেলাগুলোতে গাইডনির্ভর পড়াশোনা এবং সৃজনশীল লেখার দক্ষতার ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ফল করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম কলেজের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো ফল এলেও প্রান্তিক অঞ্চলে অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ পরীক্ষাকালের কারণে মানসিক চাপ ও ফোকাস হারানোর কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে বর্ষা মৌসুমের আগেই পরীক্ষা শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে বর্তমান সংকট দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামীতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি ক্লাসরুমে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং সফট স্কিল উন্নয়নে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বোর্ড কর্তৃপক্ষও সামগ্রিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

‘আগামী অধিবেশনেই পাস হবে সৌরবিদ্যুৎ আইন’

‘পিছিয়ে থাকা’ ৩ পার্বত্য জেলা আর লম্বা পরীক্ষায় ফল খারাপ চট্টগ্রামে!

প্রকাশিত ১১:০৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা ডেস্ক: সম্প্রতি প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে এই বোর্ডে ধারাবাহিক অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র বাহান্ন শতাংশের কিছু বেশি এবং দুই হাজারের মতো শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলা, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা এবং তিন পার্বত্য জেলার পিছিয়ে পড়া ফলাফল এই সামগ্রিক বিপর্যয়কে ত্বরান্বিত করেছে।

বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছর দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও মনোযোগ ব্যাহত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে গত জুলাই মাসে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর কার্যক্রম শেষ হতে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত গড়ায়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক পড়াশোনার ছন্দপতন ঘটে এবং তারা মানসিক ক্লান্তির মুখে পড়ে। এছাড়া, দীর্ঘদিন পর এবারই প্রথম শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ সিলেবাসের ওপর অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়, যা অনেকের জন্যই বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল।

উত্তরপত্র মূল্যায়নে নতুন রুবিক্স পদ্ধতি অনুসরণ করার কারণে প্রকৃত ফলাফল সামনে এসেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা—এই চার ধাপে শিক্ষার্থীদের উত্তর লেখার কথা থাকলেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত মান বজায় রাখতে পারেনি। বিশেষ করে পার্বত্য জেলাগুলোতে গাইডনির্ভর পড়াশোনা এবং সৃজনশীল লেখার দক্ষতার ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ফল করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম কলেজের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো ফল এলেও প্রান্তিক অঞ্চলে অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ পরীক্ষাকালের কারণে মানসিক চাপ ও ফোকাস হারানোর কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে বর্ষা মৌসুমের আগেই পরীক্ষা শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে বর্তমান সংকট দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামীতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি ক্লাসরুমে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং সফট স্কিল উন্নয়নে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বোর্ড কর্তৃপক্ষও সামগ্রিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।