ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

১৩৯ প্রতিষ্ঠানে সব শিক্ষার্থী পাশ

শিক্ষা ডেস্ক: চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারা দেশের ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করার গৌরব অর্জন করেছে। গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ৩৪৫টি, যার ফলে এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০৬টি কমে গেছে। অন্যদিকে, এ বছর দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি এবং এই শূন্য পাসের হার গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯১টি বেড়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের পর নির্ধারিত ওয়েবসাইট, নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্র এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের হাতে ফলাফল পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় সর্বমোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি, পরীক্ষায় সর্বমোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড বা জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ বছর সব মিলিয়ে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছিল।

নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন। সারা দেশের মোট ২ হাজার ৬৯১টি নির্ধারিত কেন্দ্রে এই পাবলিক পরীক্ষা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নির্দিষ্ট সময়ে গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো প্রথমে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো পুনরায় গ্রহণ করা হলে গত ৯ সেপ্টেম্বর তা পুরোপুরি সমাপ্ত হয়।

পরীক্ষার সামগ্রিক ফলাফল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাসের হারের এই তারতম্য শিক্ষা খাতের বর্তমান চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হ্রাস পাওয়া এবং শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং যেসব প্রতিষ্ঠান কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জনপ্রিয়

‘বহুরুপী ৩’: ‘ডাকাতদের’ সঙ্গে থাকছেন মিঠুন চক্রবর্তী

১৩৯ প্রতিষ্ঠানে সব শিক্ষার্থী পাশ

প্রকাশিত ১২:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা ডেস্ক: চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারা দেশের ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করার গৌরব অর্জন করেছে। গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ৩৪৫টি, যার ফলে এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০৬টি কমে গেছে। অন্যদিকে, এ বছর দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি এবং এই শূন্য পাসের হার গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯১টি বেড়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের পর নির্ধারিত ওয়েবসাইট, নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্র এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের হাতে ফলাফল পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় সর্বমোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি, পরীক্ষায় সর্বমোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড বা জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ বছর সব মিলিয়ে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছিল।

নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন। সারা দেশের মোট ২ হাজার ৬৯১টি নির্ধারিত কেন্দ্রে এই পাবলিক পরীক্ষা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নির্দিষ্ট সময়ে গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো প্রথমে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো পুনরায় গ্রহণ করা হলে গত ৯ সেপ্টেম্বর তা পুরোপুরি সমাপ্ত হয়।

পরীক্ষার সামগ্রিক ফলাফল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাসের হারের এই তারতম্য শিক্ষা খাতের বর্তমান চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হ্রাস পাওয়া এবং শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং যেসব প্রতিষ্ঠান কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।