ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo হুমায়ুন-মিলিব্যান্ড সাক্ষাৎ: বাণিজ্য বাড়া ও এয়ারবাস কেনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ Logo যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে স্থায়ী হতে বেশির ভাগের ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে Logo পাচার করা অর্থ ফেরাতে হংকংয়ের সঙ্গে চুক্তির খসড়ায় সায় Logo সিলিন্ডার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি Logo প্রাক-অর্থায়ন তহবিল: বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএফআইসির চুক্তি Logo বায়ার্ন ম্যাচের আগে ‘অবিশ্বাস্য’ কেইনকে অভিনন্দন জানালেন সিমেওনে Logo বাদাম বিক্রির জীবন থেকে স্কুলের আঙিনায় ৮ বছরের হাসান Logo গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ Logo রাজধানীতে বসছে আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা Logo কানাডায় যাচ্ছেন শিবলী-নিপা, শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক মঞ্চে পরিবেশনা

বাঙালির প্রিয় শুঁটকিতেও মিলল ৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় খাবার শুঁটকি মাছে উদ্বেগজনক মাত্রায় প্লাস্টিক দূষণ ধরা পড়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা শুঁটকি মাছে নয় ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। উপকূলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে সংগৃহীত ছয় প্রজাতির মাছের সব কটি নমুনার মধ্যেই এই ক্ষতিকর কণা পাওয়া গেছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য খাদ্যনিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর নতুন করে বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলিমুল আশরাফুল আজম খানের নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। গবেষক দলটি কক্সবাজার, টেকনাফ, সুন্দরবনের দুবলার চর ও কুয়াকাটা থেকে লইট্টা, ছুরি, পোয়া, ফাইস্যাসহ বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকি মাছের নমুনা সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত ২৪টি নমুনা পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করে প্রতিটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব নিশ্চিত হন গবেষকরা। আন্তর্জাতিক পলিমার হ্যাজার্ড ইনডেক্স অনুযায়ী, কুয়াকাটা ও কক্সবাজারের শুঁটকিতে এসব ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

গবেষণায় চিহ্নিত নয় ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিকের মধ্যে পলিভিনাইল ক্লোরাইড বা পিভিসি এবং পলিস্টাইরিনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি রয়েছে। গবেষকদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় যত্রতত্র ফেলা প্লাস্টিক বর্জ্য এবং শিল্পকারখানার দূষণ পানিতে মিশে জলজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া মাছ শুকানোর কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্লাস্টিক উপকরণ, রশি এবং জালের কারণেও এই দূষণ ছড়াতে পারে। পরিবেশের সঙ্গে মিশে যাওয়া এই ক্ষুদ্র কণাগুলো খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে সরাসরি মাছে প্রবেশ করছে বলে তাঁরা মনে করেন।

তবে শুঁটকির এই মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে ঠিক কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি গবেষকরা। এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মত দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও খাদ্যশৃঙ্খলে এমন দূষণের বিস্তার রোধে এখনই জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্লাস্টিক দূষণ রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপকূলীয় জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের যথাযথ নিয়ম মেনে চলতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসমূহকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।

জনপ্রিয়

হুমায়ুন-মিলিব্যান্ড সাক্ষাৎ: বাণিজ্য বাড়া ও এয়ারবাস কেনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ

বাঙালির প্রিয় শুঁটকিতেও মিলল ৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক

প্রকাশিত ১২:৫২:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় খাবার শুঁটকি মাছে উদ্বেগজনক মাত্রায় প্লাস্টিক দূষণ ধরা পড়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা শুঁটকি মাছে নয় ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। উপকূলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে সংগৃহীত ছয় প্রজাতির মাছের সব কটি নমুনার মধ্যেই এই ক্ষতিকর কণা পাওয়া গেছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য খাদ্যনিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর নতুন করে বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলিমুল আশরাফুল আজম খানের নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। গবেষক দলটি কক্সবাজার, টেকনাফ, সুন্দরবনের দুবলার চর ও কুয়াকাটা থেকে লইট্টা, ছুরি, পোয়া, ফাইস্যাসহ বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকি মাছের নমুনা সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত ২৪টি নমুনা পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করে প্রতিটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব নিশ্চিত হন গবেষকরা। আন্তর্জাতিক পলিমার হ্যাজার্ড ইনডেক্স অনুযায়ী, কুয়াকাটা ও কক্সবাজারের শুঁটকিতে এসব ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

গবেষণায় চিহ্নিত নয় ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিকের মধ্যে পলিভিনাইল ক্লোরাইড বা পিভিসি এবং পলিস্টাইরিনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি রয়েছে। গবেষকদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় যত্রতত্র ফেলা প্লাস্টিক বর্জ্য এবং শিল্পকারখানার দূষণ পানিতে মিশে জলজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া মাছ শুকানোর কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্লাস্টিক উপকরণ, রশি এবং জালের কারণেও এই দূষণ ছড়াতে পারে। পরিবেশের সঙ্গে মিশে যাওয়া এই ক্ষুদ্র কণাগুলো খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে সরাসরি মাছে প্রবেশ করছে বলে তাঁরা মনে করেন।

তবে শুঁটকির এই মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে ঠিক কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি গবেষকরা। এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মত দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও খাদ্যশৃঙ্খলে এমন দূষণের বিস্তার রোধে এখনই জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্লাস্টিক দূষণ রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপকূলীয় জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের যথাযথ নিয়ম মেনে চলতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসমূহকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।