ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ট্রাম্প প্রশাসন বোলসোনারোকে ব্রাজিল থেকে পালাতে সাহায্য করেনি: রুবিও Logo প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠুক শিক্ষার্থীরা Logo ‘রাজনীতির কচকচানি’ বাদ দিয়ে উন্নয়নের দিকে যেতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo দলের নীতিগত বিচ্যুতির অভিযোগ তুলে কুড়িগ্রামে এনসিপি নেতার পদত্যাগ Logo পরিযায়ী পাখিদের দিকভ্রান্তির কারণ অদ্ভুত এই ‘জেট ল্যাগ’ Logo প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতি সহমর্মী হই Logo ট্রাইব্যুনালে ‘বস্তায় বস্তায় লেনদেনের’ মন্তব্য, এবি পার্টির ফুয়াদকে তলব Logo উত্তরার বারে তাহসিফের সঙ্গে দেখা যাওয়া তরুণী গ্রেপ্তার Logo ‘অসত্য বয়ানের’ অভিযোগ, আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়লেন রাশেদ Logo ইতালিতে ‘ভুল অনুবাদের’ অভিযোগে বাংলাদেশি দোভাষী আটক

পরিযায়ী পাখিদের দিকভ্রান্তির কারণ অদ্ভুত এই ‘জেট ল্যাগ’

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: খাবারের খোঁজে সমুদ্রের দূরদূরান্তে দীর্ঘ সফর শেষে নিজ ভিটায় ফেরার পথে প্রাকৃতিক বাধার মুখে পড়ছে সামুদ্রিক পাখিরা। দ্রুতগতির দীর্ঘ ভ্রমণের ফলে স্থানীয় সময়ের সঙ্গে পাখিদের দেহের ভেতরের জৈব ঘড়ির তাল কেটে যায়, যা জেট ল্যাগ নামে পরিচিত। এই জেট ল্যাগের কারণে পাখিরা নির্ধারিত পথ থেকে শত শত মাইল দূরে সরে যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের পশ্চিম উপকূলের ম্যানক্স শেয়ারওয়াটার পাখির জিপিএস ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এই তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল সায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণাটি।

অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে খাবার সন্ধান শেষে পূর্বের কলোনিতে ফেরার সময় দ্রাঘিমারেখা পেরনোর ফলে স্থানীয় সময়ের সঙ্গে পাখিদের জৈব ঘড়ির ফারাক তৈরি হয়। এর ফলে এই পাখিদের সময়ের হিসাব ও দিকনির্ণয় ব্যবস্থায় সাময়িক ব্যাঘাত ঘটে। চলাচলের সময় সমুদ্রের অন্যান্য বহু প্রাণীর মতো শেয়ারওয়াটার পাখিও সূর্যকে কম্পাস হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। তবে পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আকাশে সূর্যের অবস্থানের পরিবর্তনের হিসাব রাখতে পাখিদের দেহের ভেতরের বডি ক্লকের ওপর নির্ভর করতে হয়। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এই জৈব ঘড়ি স্থানীয় সময়ের সঙ্গে নিজেদের মিলিয়ে নিতে সাহায্য করে।

ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ডের আচরণ ও পরিবেশবিজ্ঞানী ড. প্যাট্রিক লিউইন এবং তার গবেষক দলের দীর্ঘ ২০ বছরের তথ্য পর্যালোচনায় এই চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিণত ও অভিজ্ঞ শেয়ারওয়াটার পাখিদের ক্ষেত্রে এই জেট ল্যাগের প্রভাব অনেকটাই সীমিত থাকে। অভিজ্ঞ পাখিরা ওড়ার অবস্থাতেই নিজেদের দিক শুধরে নিতে পারে এবং সামান্য বিচ্যুত হলেও দ্রুত তা সংশোধন করে নেয়। তবে তরুণ ও অনভিজ্ঞ পাখিদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা হয়। জীবনের প্রথম দিকে দূরবর্তী সফরে যাওয়া তরুণ পাখিরা এই সমস্যার কারণে বড় বিপাকে পড়ে।

ড. প্যাট্রিক লিউইন জানিয়েছেন যে পাখির অভ্যন্তরীণ ঘড়িও জেট ল্যাগের শিকার হতে পারে, যার ফলে দিক ভুল করে অন্য পথে উড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময়ের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ঘড়ির এই গরমিলের কারণে আকাশে সূর্যের অবস্থান আশানুরূপ না থাকলে তারা পথ হারিয়ে ফেলে। অভিজ্ঞ পাখিরা ১ হাজার কিলোমিটারের যাত্রায় সামান্য ঘুরলেও প্রথমবারের মতো সমুদ্রযাত্রায় অংশ নেওয়া তরুণ পাখিরা শত শত কিলোমিটার পথ বিচ্যুত হতে পারে। কারণ হারিয়ে গেলে নিজেদের নতুন করে দিক চেনার মতো কোনো প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা তাদের থাকে না।

ব্যাংকোর ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রিচার্ড হল এই গবেষণাটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এটি পরীক্ষাগারের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের বাইরে বুনো প্রাণীদের ক্ষেত্রেও সূর্যের কম্পাসের ওপর তাদের নির্ভরতা প্রমাণ করে। ম্যানক্স শেয়ারওয়াটার পাখিরা তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় সমুদ্রের গভীরে কাটিয়ে দেয় এবং প্রতিবছর প্রজননের জন্য নির্দিষ্ট দ্বীপে ফিরে আসে। তবে এই দিকভ্রান্ত হওয়ার কারণে পাখিদের ওপর শেষ পর্যন্ত ঠিক কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তা এই গবেষণায় পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।

জনপ্রিয়

ট্রাম্প প্রশাসন বোলসোনারোকে ব্রাজিল থেকে পালাতে সাহায্য করেনি: রুবিও

পরিযায়ী পাখিদের দিকভ্রান্তির কারণ অদ্ভুত এই ‘জেট ল্যাগ’

প্রকাশিত ০৪:২২:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: খাবারের খোঁজে সমুদ্রের দূরদূরান্তে দীর্ঘ সফর শেষে নিজ ভিটায় ফেরার পথে প্রাকৃতিক বাধার মুখে পড়ছে সামুদ্রিক পাখিরা। দ্রুতগতির দীর্ঘ ভ্রমণের ফলে স্থানীয় সময়ের সঙ্গে পাখিদের দেহের ভেতরের জৈব ঘড়ির তাল কেটে যায়, যা জেট ল্যাগ নামে পরিচিত। এই জেট ল্যাগের কারণে পাখিরা নির্ধারিত পথ থেকে শত শত মাইল দূরে সরে যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের পশ্চিম উপকূলের ম্যানক্স শেয়ারওয়াটার পাখির জিপিএস ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এই তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল সায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণাটি।

অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে খাবার সন্ধান শেষে পূর্বের কলোনিতে ফেরার সময় দ্রাঘিমারেখা পেরনোর ফলে স্থানীয় সময়ের সঙ্গে পাখিদের জৈব ঘড়ির ফারাক তৈরি হয়। এর ফলে এই পাখিদের সময়ের হিসাব ও দিকনির্ণয় ব্যবস্থায় সাময়িক ব্যাঘাত ঘটে। চলাচলের সময় সমুদ্রের অন্যান্য বহু প্রাণীর মতো শেয়ারওয়াটার পাখিও সূর্যকে কম্পাস হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। তবে পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আকাশে সূর্যের অবস্থানের পরিবর্তনের হিসাব রাখতে পাখিদের দেহের ভেতরের বডি ক্লকের ওপর নির্ভর করতে হয়। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এই জৈব ঘড়ি স্থানীয় সময়ের সঙ্গে নিজেদের মিলিয়ে নিতে সাহায্য করে।

ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ডের আচরণ ও পরিবেশবিজ্ঞানী ড. প্যাট্রিক লিউইন এবং তার গবেষক দলের দীর্ঘ ২০ বছরের তথ্য পর্যালোচনায় এই চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিণত ও অভিজ্ঞ শেয়ারওয়াটার পাখিদের ক্ষেত্রে এই জেট ল্যাগের প্রভাব অনেকটাই সীমিত থাকে। অভিজ্ঞ পাখিরা ওড়ার অবস্থাতেই নিজেদের দিক শুধরে নিতে পারে এবং সামান্য বিচ্যুত হলেও দ্রুত তা সংশোধন করে নেয়। তবে তরুণ ও অনভিজ্ঞ পাখিদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা হয়। জীবনের প্রথম দিকে দূরবর্তী সফরে যাওয়া তরুণ পাখিরা এই সমস্যার কারণে বড় বিপাকে পড়ে।

ড. প্যাট্রিক লিউইন জানিয়েছেন যে পাখির অভ্যন্তরীণ ঘড়িও জেট ল্যাগের শিকার হতে পারে, যার ফলে দিক ভুল করে অন্য পথে উড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময়ের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ঘড়ির এই গরমিলের কারণে আকাশে সূর্যের অবস্থান আশানুরূপ না থাকলে তারা পথ হারিয়ে ফেলে। অভিজ্ঞ পাখিরা ১ হাজার কিলোমিটারের যাত্রায় সামান্য ঘুরলেও প্রথমবারের মতো সমুদ্রযাত্রায় অংশ নেওয়া তরুণ পাখিরা শত শত কিলোমিটার পথ বিচ্যুত হতে পারে। কারণ হারিয়ে গেলে নিজেদের নতুন করে দিক চেনার মতো কোনো প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা তাদের থাকে না।

ব্যাংকোর ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রিচার্ড হল এই গবেষণাটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এটি পরীক্ষাগারের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের বাইরে বুনো প্রাণীদের ক্ষেত্রেও সূর্যের কম্পাসের ওপর তাদের নির্ভরতা প্রমাণ করে। ম্যানক্স শেয়ারওয়াটার পাখিরা তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় সমুদ্রের গভীরে কাটিয়ে দেয় এবং প্রতিবছর প্রজননের জন্য নির্দিষ্ট দ্বীপে ফিরে আসে। তবে এই দিকভ্রান্ত হওয়ার কারণে পাখিদের ওপর শেষ পর্যন্ত ঠিক কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তা এই গবেষণায় পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।