ঢাকা ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

নজিরবিহীন খরচের ভোটে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল আয়োজন হতে চলেছে। বিজ্ঞাপনে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি শীর্ষ ধনকুবেরদের বিশাল অঙ্কের অনুদান এই নির্বাচনকে নজিরবিহীন করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিং ফার্ম অ্যাড ইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, কেবল প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনেই প্রায় ১১শ ৬০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। এই বিশাল অঙ্কের ব্যয় অতীতে অনুষ্ঠিত যেকোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকেও ছাড়িয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র অনুদানের পাশাপাশি অতি-ধনী ব্যক্তি ও সংস্থাগুলো এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগান দিচ্ছে।

নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশ আসছে শীর্ষ ৫০ জন মেগা-দাতা ও বিভিন্ন সংস্থার ব্যক্তিগত অনুদান থেকে। ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের তথ্য অনুসারে, এই শীর্ষ ৫০ দাতা ও সংস্থা মিলে এ পর্যন্ত ২৭৭ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছে। এর মধ্যে রিপাবলিকানপন্থি দাতারা ১৬৭ কোটি ডলার বা প্রায় ৬০ শতাংশ অনুদান প্রদান করেছেন। বিপরীতে, ডেমোক্র্যাটপন্থি দাতারা দিয়েছেন ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ৩০ শতাংশ অর্থ। বাকি ১০ শতাংশ বা ২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও স্পোর্টস বেটিংয়ের মতো বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী থেকে।

আইন অনুযায়ী একজন নাগরিক ফেডারেল প্রার্থীর তহবিলে সীমিত অর্থ দিতে পারলেও, সুপার প্যাকের মাধ্যমে সীমাহীন অর্থ ব্যয়ের সুযোগ রয়েছে। সুপার প্যাক হলো এমন গোষ্ঠী যারা প্রার্থীর প্রচারণার সাথে সমন্বয় না করে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের সমর্থন বা বিরোধিতা করতে পারে। তবে ওয়ান নেশন এবং মেজরিটি ফরোয়ার্ডের মতো কিছু অলাভজনক সংস্থা দাতাদের পরিচয় প্রকাশ না করায় এগুলো ডার্ক মানি বা কালো টাকা হিসেবে পরিচিত। হার্ভার্ড ল স্কুলের অধ্যাপক লরেন্স লেসিগ মনে করেন, এই অর্থ সাধারণ ভোটারদের কাছে গোপন থাকলেও মূল রাজনীতিবিদদের কাছে ঠিকই উন্মুক্ত থাকে।

ব্যক্তিগত দাতাদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক, যিনি ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার অনুদান দিয়ে রেকর্ড গড়েছেন। এছাড়া রিপাবলিকানদের পক্ষে এলিজাবেথ ও রিচার্ড উইহেলিন এবং জেফ ও জেনিন ইয়াস বড় অংকের অর্থ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে জর্জ সোরোস, মাইক ব্লুমবার্গ এবং রিড হফম্যানের মতো ব্যক্তিরা বড় অনুদানদাতা হিসেবে রয়েছেন। পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি ফার্ম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক অলাভজনক সংস্থাও এই নির্বাচনে প্রচুর অর্থ ঢালছে।

নির্বাচনে অর্থের এই বিশাল প্রবাহ এবং দাতাদের কেন্দ্রীকরণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। লরেন্স লেসিগের মতে, নির্বাচনের মোট খরচ নয় বরং হাতে গোনা কয়েকজন ধনকুবেরের কাছে ক্ষমতার এই কেন্দ্রীকরণই গণতন্ত্রের জন্য আসল সমস্যা। টেবিলে বড় অঙ্কের অর্থ রাখতে না পারলে সাধারণ মানুষের গুরুত্ব যে ম্লান হয়ে যায়, এই পরিস্থিতি তারই ইঙ্গিত দেয়।

জনপ্রিয়

ভিয়ারেয়ালকে গোলবন্যায় ভাসাল পিএসজি

নজিরবিহীন খরচের ভোটে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত ০৫:৩৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল আয়োজন হতে চলেছে। বিজ্ঞাপনে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি শীর্ষ ধনকুবেরদের বিশাল অঙ্কের অনুদান এই নির্বাচনকে নজিরবিহীন করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিং ফার্ম অ্যাড ইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, কেবল প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনেই প্রায় ১১শ ৬০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। এই বিশাল অঙ্কের ব্যয় অতীতে অনুষ্ঠিত যেকোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকেও ছাড়িয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র অনুদানের পাশাপাশি অতি-ধনী ব্যক্তি ও সংস্থাগুলো এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগান দিচ্ছে।

নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশ আসছে শীর্ষ ৫০ জন মেগা-দাতা ও বিভিন্ন সংস্থার ব্যক্তিগত অনুদান থেকে। ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের তথ্য অনুসারে, এই শীর্ষ ৫০ দাতা ও সংস্থা মিলে এ পর্যন্ত ২৭৭ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছে। এর মধ্যে রিপাবলিকানপন্থি দাতারা ১৬৭ কোটি ডলার বা প্রায় ৬০ শতাংশ অনুদান প্রদান করেছেন। বিপরীতে, ডেমোক্র্যাটপন্থি দাতারা দিয়েছেন ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ৩০ শতাংশ অর্থ। বাকি ১০ শতাংশ বা ২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও স্পোর্টস বেটিংয়ের মতো বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী থেকে।

আইন অনুযায়ী একজন নাগরিক ফেডারেল প্রার্থীর তহবিলে সীমিত অর্থ দিতে পারলেও, সুপার প্যাকের মাধ্যমে সীমাহীন অর্থ ব্যয়ের সুযোগ রয়েছে। সুপার প্যাক হলো এমন গোষ্ঠী যারা প্রার্থীর প্রচারণার সাথে সমন্বয় না করে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের সমর্থন বা বিরোধিতা করতে পারে। তবে ওয়ান নেশন এবং মেজরিটি ফরোয়ার্ডের মতো কিছু অলাভজনক সংস্থা দাতাদের পরিচয় প্রকাশ না করায় এগুলো ডার্ক মানি বা কালো টাকা হিসেবে পরিচিত। হার্ভার্ড ল স্কুলের অধ্যাপক লরেন্স লেসিগ মনে করেন, এই অর্থ সাধারণ ভোটারদের কাছে গোপন থাকলেও মূল রাজনীতিবিদদের কাছে ঠিকই উন্মুক্ত থাকে।

ব্যক্তিগত দাতাদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক, যিনি ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার অনুদান দিয়ে রেকর্ড গড়েছেন। এছাড়া রিপাবলিকানদের পক্ষে এলিজাবেথ ও রিচার্ড উইহেলিন এবং জেফ ও জেনিন ইয়াস বড় অংকের অর্থ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে জর্জ সোরোস, মাইক ব্লুমবার্গ এবং রিড হফম্যানের মতো ব্যক্তিরা বড় অনুদানদাতা হিসেবে রয়েছেন। পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি ফার্ম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক অলাভজনক সংস্থাও এই নির্বাচনে প্রচুর অর্থ ঢালছে।

নির্বাচনে অর্থের এই বিশাল প্রবাহ এবং দাতাদের কেন্দ্রীকরণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। লরেন্স লেসিগের মতে, নির্বাচনের মোট খরচ নয় বরং হাতে গোনা কয়েকজন ধনকুবেরের কাছে ক্ষমতার এই কেন্দ্রীকরণই গণতন্ত্রের জন্য আসল সমস্যা। টেবিলে বড় অঙ্কের অর্থ রাখতে না পারলে সাধারণ মানুষের গুরুত্ব যে ম্লান হয়ে যায়, এই পরিস্থিতি তারই ইঙ্গিত দেয়।