আইন-আদালত ডেস্ক: সংবিধান সংস্কারের মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকলেও তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিএনপি সংসদীয় পন্থায় সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নিলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট গণভোটের রায় মেনে সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে তা পরিবর্তনের দাবিতে অনড় রয়েছে। এই মতভিন্নতার জেরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি হওয়া গণভোটে প্রায় উনসত্তর শতাংশ ভোটার সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছিলেন। ওই আদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবেই শপথ গ্রহণ করেন। তবে বিরোধী জোটের সদস্যরা আলাদাভাবে উভয় শপথই সম্পন্ন করেছেন।
আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা এই বিরোধকে মূলত প্রক্রিয়াগত ও প্রযুক্তিগত জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল কিংবা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোতে দূরত্ব না থাকলেও পরিবর্তনগুলো সংসদের ভেতরে নাকি বাইরের সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে আইনজীবী শাহদীন মালিক মনে করেন, কেবল সংবিধানে ভালো কথা লিখলেই রাষ্ট্রে জবাবদিহি নিশ্চিত হয় না, যার প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের দীর্ঘদিনের সংবিধানের ইতিহাস।
এদিকে লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বর্তমান সংবিধানকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে একে সংস্কারের পরিবর্তে নতুন করে রচনার ওপর জোর দিয়েছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সংবিধানের বৈধতা প্রসঙ্গে আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া একে জনগণের বিপ্লবী ম্যান্ডেট হিসেবে উল্লেখ করলেও আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার কথা বলে সংবিধান পুরোপুরি বাতিল হয়নি বলে মত দেন। সব মিলিয়ে, এই রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের মাঝে কীভাবে চূড়ান্ত সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





































