ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সিরাজগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে সুলতান-দুলু-মাজেদ Logo বরিশালে দিনে মিছিল, রাতে ছাত্র-যুবলীগের ৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার Logo ছায়ানটে ‘দেশের গানে’ অসাম্প্রদায়িক চেতনার ডাক Logo বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে আলোচনা সভা Logo ময়লার স্তূপে দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষরোপণ, গড়ে উঠছে সবুজ জোন Logo ‘দেশে-বিদেশে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে’ Logo সামান্তাদের বিদায়: তরুণদের রাজনীতির স্বপ্নে ভাঙন Logo জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করেছিল সেনাবাহিনী, ‘জাসদের দাবি সঠিক নয়’: সাখাওয়াত Logo হেঁটে সাড়ে ৫ কিলোমিটারের শোভাযাত্রায় তারেক রহমান Logo পরীমনিকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হচ্ছে আয়োজন

শেখ হাসিনা কি শ্বশুরবাড়ি বেড়াইতে আসবেন যে তাকে পাসপোর্ট দেব, প্রশ্ন হুমায়ুনের

রাজনীতি ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার বিষয়টি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান। শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পর তাকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক শেষে সম্প্রতি দেশে ফেরায় বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে পলাতক সন্ত্রাসী ও অপরাধী হিসেবে তাকে সাধারণ পর্যটক বা ভ্রমণকারী হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যকর থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বারবার বলে আসছে ঢাকা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না, বরং তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হস্তান্তর করতে হয়। বিগত ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত নভেম্বর মাসে তাকে অনুপস্থিতিতেই ফাঁসির দণ্ড প্রদান করে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই আন্দোলনে প্রায় চৌদ্দশ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যদিও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার আইনজীবীরা এই অভিযোগ ও মৃত্যুর সংখ্যা অস্বীকার করে আসছেন। ভারত সরকারের কাছে তাকে হস্তান্তরের জন্য বারবার চিঠি দিলেও এখন পর্যন্ত দিল্লির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবির আরও বলেন যে শেখ হাসিনা কি শ্বশুরবাড়ি রংপুরে বেড়াতে আসবেন যে তাকে পাসপোর্ট দেওয়া হবে। দুই দেশের মধ্যকার বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আইনি প্রক্রিয়া এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বিদ্যমান রয়েছে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী একজন পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী অপরাধীকে স্বাভাবিক নিয়মে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার যে দাবি জানানো হয়েছে, তা যথাযথ আইনি কাঠামোর মাধ্যমেই সম্পন্ন করার কথা বলেন তিনি।

ভারতের আশ্রয়ে থাকা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় বহাল থাকা অবস্থায় তার সাম্প্রতিক দেশে ফেরার পরিকল্পনার বিষয়টি গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে যে তিনি ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে তাকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান অটল রয়েছে এবং প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এই কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয়

সিরাজগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে সুলতান-দুলু-মাজেদ

শেখ হাসিনা কি শ্বশুরবাড়ি বেড়াইতে আসবেন যে তাকে পাসপোর্ট দেব, প্রশ্ন হুমায়ুনের

প্রকাশিত ০৬:০৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার বিষয়টি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান। শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পর তাকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক শেষে সম্প্রতি দেশে ফেরায় বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে পলাতক সন্ত্রাসী ও অপরাধী হিসেবে তাকে সাধারণ পর্যটক বা ভ্রমণকারী হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যকর থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বারবার বলে আসছে ঢাকা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না, বরং তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হস্তান্তর করতে হয়। বিগত ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত নভেম্বর মাসে তাকে অনুপস্থিতিতেই ফাঁসির দণ্ড প্রদান করে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই আন্দোলনে প্রায় চৌদ্দশ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যদিও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার আইনজীবীরা এই অভিযোগ ও মৃত্যুর সংখ্যা অস্বীকার করে আসছেন। ভারত সরকারের কাছে তাকে হস্তান্তরের জন্য বারবার চিঠি দিলেও এখন পর্যন্ত দিল্লির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবির আরও বলেন যে শেখ হাসিনা কি শ্বশুরবাড়ি রংপুরে বেড়াতে আসবেন যে তাকে পাসপোর্ট দেওয়া হবে। দুই দেশের মধ্যকার বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আইনি প্রক্রিয়া এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বিদ্যমান রয়েছে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী একজন পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী অপরাধীকে স্বাভাবিক নিয়মে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার যে দাবি জানানো হয়েছে, তা যথাযথ আইনি কাঠামোর মাধ্যমেই সম্পন্ন করার কথা বলেন তিনি।

ভারতের আশ্রয়ে থাকা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় বহাল থাকা অবস্থায় তার সাম্প্রতিক দেশে ফেরার পরিকল্পনার বিষয়টি গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে যে তিনি ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে তাকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান অটল রয়েছে এবং প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এই কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।