অপরাধ ডেস্ক: রাজধানীর মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলা রিকশা চালানো, নির্মাণকাজ কিংবা লেগুনা চালানোর আড়ালে অনেকে রাতে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। রিকশাচালক, শ্রমিক বা পরিবহন সহকারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে এই চক্রের সদস্যরা মূলত ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ ঘটাচ্ছেন। পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে থাকা এসব মানুষের হাতুড়ি কখনো হামলার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো তারা যানবাহনের মাধ্যমে অপরাধের প্রস্তুতি নেন। সাম্প্রতিক সময়ে মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় ১১ জন সন্দেহভাজন আটকের পর তাদের এমন দ্বিমুখী পেশাগত অবস্থানের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অপরাধ সংঘটনের পর তাঁরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এই অপরাধীদের একটি বড় অংশ ঢাকার বিভিন্ন বস্তি, মেস, নির্মাণাধীন ভবন ও অস্থায়ী আবাসনে ছদ্মবেশে বসবাস করে। তাদের স্থায়ী ঠিকানা বা প্রকৃত পরিচয় অস্পষ্ট থাকায় এবং পুলিশি খাতায় নাম না থাকায় অনেক সময় অপরাধের ইতিহাস তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায় না। তারা অপরাধের পর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম বদলে ফেলে এবং ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে আত্মগোপন করে। ডিএমপির তেজগাঁও জোনের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, এসব অপরাধী নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান না করে দ্রুত এলাকা বদলায়, যা তদন্তকে আরও জটিল করে তোলে।
পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাজধানীতে অপরাধের চিত্র বেশ উদ্বেগজনক। নির্দিষ্ট সময়ে শত শত হত্যা, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা হওয়ার পাশাপাশি ডিএমপির তালিকায় হাজারের বেশি সক্রিয় ছিনতাইকারী ও শতাধিক পেশাদার অপরাধী চক্র রয়েছে। তালিকাভুক্ত এসব অপরাধী ছাড়াও অনেকে নতুন করে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং জামিনে মুক্ত হয়ে ফের একই পথ বেছে নিচ্ছে। অন্যদিকে, বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সত্ত্বেও অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম বা ডিভাইস পরিবর্তনের মাধ্যমে অপরাধীরা ডিজিটাল নজরদারি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।
ঢাকায় প্রতিদিন জীবিকার সন্ধানে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড়ে অপরাধীদের আলাদা করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রাজধানীতে লাখ লাখ ভাসমান ও অস্থায়ীভাবে বসবাসকারী মানুষের সঠিক তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা সম্ভব হয় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুযোগে অপরাধীরা সহজেই বিভিন্ন বস্তি বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আশ্রয় নিয়ে স্থানীয় মাদক কারবারি বা কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। এই ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে আঙুলের ছাপ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ডিজিটাল আলামত মিলিয়ে সামগ্রিক তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।




































