ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে  Logo ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে মিললো সমাধান, ববি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার Logo জাবিতে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রকল্যাণ সংঘের সভাপতি হাসান, সম্পাদক কাফী Logo কুবির বিজয়-২৪ হলকে মাদকমুক্ত করতে উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি Logo রাবিতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী Logo যাত্রাবাড়ীতে বিপুল গাঁজাসহ তিন মাদককারবারী গ্রেপ্তার Logo জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন Logo সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান চর্চায় বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ে ‘ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেলা’

যবিপ্রবির ডেপুটি রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ভুয়া বেতনসিট ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ

  • রায়হান আহমদ
  • প্রকাশিত ০২:৫৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫
  • ১৩৯ বার পঠিত

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আউটসোর্সিং জনবল হিসেবে কর্মরত অনুপস্থিত পাঁচজন কর্মচারীর তিন মাসের ভুয়া বেতনসিটে তৈরি ও সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানি ‘বিএসএস’ এর সাথে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে যবিপ্রবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টেট ও নিরাপত্তা শাখা) মোঃ জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে। এছাড়া গতমাসের বেতনসিটে কর্মচারীদের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় অডিট আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট সেল।

জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৫ জন কর্মচারী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও হাজিরা সিটে তাদের স্বাক্ষর দেখিয়ে বেতন বিল তৈরি করেছে সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির। একই উপায়ে বেতনসিট তৈরি করে কয়েক মাস যাবৎ বিএসএস কোম্পানিকে অবৈধ বেতন উত্তোলনে সহযোগিতার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিয়েছেন বলে অভিযোগও রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এদিকে মার্চ মাসে আউটসোর্সিংয়ের তিনজন কর্মচারীর বেতনসিট যাচাই-বাছাইয়ের সময় অডিট আপত্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট সেল। অডিট আপত্তিতে বলা হয়, একজন কর্মচারীর নামের স্থানে অন্যজনের স্বাক্ষর রয়েছে এবং অপর দুইজনের স্বাক্ষরের সঙ্গে তাদের মূল স্বাক্ষরের মিল পাওয়া যায়নি। যার দায়িত্বে ছিলেন এই জাহাঙ্গীর কবির।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, আমাদের বেশ কয়েকজন বেশিরভাগ সময় আসেনা। যেকোনো একদিন ওদের ডেকে নিয়ে এসে হাজিরাসিটে একবারে সাইন করিয়ে নেন জাহাঙ্গীর স্যার। এইভাবে হাজিরা দেখিয়ে মাসের বিল তৈরি করেন উনি। এছাড়া এই আউটসোর্সিং কোম্পানির সাথে যোগাযোগ ও কর্মচারীদের বিষয়ে সবকিছু একাই নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোঃ জাহাঙ্গীর কবির বলেন, যে তিন জনের অডিট আপত্তি এসেছে তাদের মধ্যে একজনকে কোম্পানি বদলি করে আরেক জনকে দিয়েছে। কিন্তু বিল তৈরির সময় ভুলে পূর্বের নাম রয়ে গেছে। আর যে দুই জনের স্বাক্ষরে অমিল পাওয়া যায় তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে ভেরিফাই করেছে আর আরেকজন ছুটিতে থাকায় এখনো ভেরিফাই করতে পারেনি।

অনুপস্থিত কর্মচারীদের উপস্থিতি দেখিয়ে বেতনসিট তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ আমার জানা নেই। এতোদিন বিভিন্ন কাজের চাপের কারণে এবিষয়টি আমি নিজে তত্ত্বাবধান করতে পারিনি। এখন থেকে তাদের হাজিরার বিষয়টি আমি নিজে তত্ত্বাবধান করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবীব বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যেই আমি অবগত হয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

জনপ্রিয়

ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে 

যবিপ্রবির ডেপুটি রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ভুয়া বেতনসিট ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ

প্রকাশিত ০২:৫৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আউটসোর্সিং জনবল হিসেবে কর্মরত অনুপস্থিত পাঁচজন কর্মচারীর তিন মাসের ভুয়া বেতনসিটে তৈরি ও সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানি ‘বিএসএস’ এর সাথে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে যবিপ্রবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টেট ও নিরাপত্তা শাখা) মোঃ জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে। এছাড়া গতমাসের বেতনসিটে কর্মচারীদের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় অডিট আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট সেল।

জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৫ জন কর্মচারী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও হাজিরা সিটে তাদের স্বাক্ষর দেখিয়ে বেতন বিল তৈরি করেছে সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির। একই উপায়ে বেতনসিট তৈরি করে কয়েক মাস যাবৎ বিএসএস কোম্পানিকে অবৈধ বেতন উত্তোলনে সহযোগিতার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিয়েছেন বলে অভিযোগও রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এদিকে মার্চ মাসে আউটসোর্সিংয়ের তিনজন কর্মচারীর বেতনসিট যাচাই-বাছাইয়ের সময় অডিট আপত্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট সেল। অডিট আপত্তিতে বলা হয়, একজন কর্মচারীর নামের স্থানে অন্যজনের স্বাক্ষর রয়েছে এবং অপর দুইজনের স্বাক্ষরের সঙ্গে তাদের মূল স্বাক্ষরের মিল পাওয়া যায়নি। যার দায়িত্বে ছিলেন এই জাহাঙ্গীর কবির।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, আমাদের বেশ কয়েকজন বেশিরভাগ সময় আসেনা। যেকোনো একদিন ওদের ডেকে নিয়ে এসে হাজিরাসিটে একবারে সাইন করিয়ে নেন জাহাঙ্গীর স্যার। এইভাবে হাজিরা দেখিয়ে মাসের বিল তৈরি করেন উনি। এছাড়া এই আউটসোর্সিং কোম্পানির সাথে যোগাযোগ ও কর্মচারীদের বিষয়ে সবকিছু একাই নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোঃ জাহাঙ্গীর কবির বলেন, যে তিন জনের অডিট আপত্তি এসেছে তাদের মধ্যে একজনকে কোম্পানি বদলি করে আরেক জনকে দিয়েছে। কিন্তু বিল তৈরির সময় ভুলে পূর্বের নাম রয়ে গেছে। আর যে দুই জনের স্বাক্ষরে অমিল পাওয়া যায় তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে ভেরিফাই করেছে আর আরেকজন ছুটিতে থাকায় এখনো ভেরিফাই করতে পারেনি।

অনুপস্থিত কর্মচারীদের উপস্থিতি দেখিয়ে বেতনসিট তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ আমার জানা নেই। এতোদিন বিভিন্ন কাজের চাপের কারণে এবিষয়টি আমি নিজে তত্ত্বাবধান করতে পারিনি। এখন থেকে তাদের হাজিরার বিষয়টি আমি নিজে তত্ত্বাবধান করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবীব বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যেই আমি অবগত হয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।