ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo পাবিপ্রবিতে মাছ ধরা উৎসব বরশী কিনতে দোকানে উপচে পড়া ভিড় Logo কুল-বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ড্র ও জার্সি উন্মোচন Logo কবি নজরুল কলেজ আরবি ভাষা ও সংস্কৃতি ক্লাবের সভাপতি সোলাইমান, সম্পাদক নূর হোসাইন Logo সবার সামনে জকসু সম্পাদককে থাপ্পড়-হুমকির অভিযোগে ছাত্রদলের নেলীর বিরুদ্ধে জিডি Logo বাকৃবিতে ১ম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শেষে আসন ফাঁকা এখনও ৩৯১টি Logo কুবি ছাত্রীর পিছু নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কুমিল্লায় এসে শিক্ষার্থীদের হাতে আটক উত্যক্তকারী Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসির ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo চ্যাংদোলা করে নেতা বের করার ঘটনায় নোবিপ্রবি ছাত্রদলের ৫ নেতাকে শোকজ Logo এফএমএস বিভাগের নাম ও অনুষদ পরিবর্তন সংক্রান্ত কমিটি, সুপারিশমালা দ্রুত বাস্তবায়ন চায় শিক্ষার্থীরা Logo মুক্ত আলাপ আয়োজন করে নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি আইস ব্রেক করেছে – নোবিপ্রবি ভিসি

হাদির ওপর গুলির প্রতিবাদে ও জুলাই হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে জাবিতে বিক্ষোভ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার প্রতিবাদ এবং জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মদদদাতা শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিচারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ভিসির বাসভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন-“তুমি কে, আমি কে-হাদী হাদী”; “গোলামী না আজাদী-আজাদী”; “ইনকিলাব জিন্দাবাদ”; “সন্ত্রাসীদের কালো হাত গুঁড়িয়ে দাও”; “বিচার চাই-জুলাই হামলার বিচার চাই” ইত্যাদি।

মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং পুরো দেশ সহ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতার চিত্র স্পষ্ট করেছে। জুলাই হামলার বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনের উদাসীনতাকে তারা ‘চরম ব্যর্থতা’ বলে উল্লেখ করেন।

মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং জুলাই হামলায় ‘মদদদাতা’ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী বিচারের দাবি জানান। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে অনির্দিষ্টকালের জন্য তালা ঝুলিয়ে দেন। আন্দোলনকারীরা জানান, জুলাই হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলা হবে না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের ফ্রন্টলাইনার শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে। বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি, তারই প্রতিফলন আমরা এই হামলায় দেখছি। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিলাম, তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং পূর্বের ক্ষমতাকাঠামোর অনুসারীরাই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছে—ফলে অস্থিতিশীলতা ও গুপ্ত হামলার পরিবেশ এখনো বজায় আছে।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার একদিন পরই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বে় থাকা ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর দিবালোকে সশস্ত্র হামলা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাশফায়ার উসকানিকারী শিক্ষক গ্রেপ্তার হলেও কিছু গণমাধ্যম ঘটনাটিকে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ১৫ জুলাই জাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার না হওয়াকেও তিনি প্রশাসনের ‘অগ্রহণযোগ্য ব্যর্থতা’ বলে আখ্যায়িত করেন।

প্রশাসনিক (রেজিস্ট্রার) ভবনে তালা দেওয়ার বিষয়ে মাজহারুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের ভেতরে আওয়ামী দোসররা বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে। যতদিন হামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচার না হবে, ততদিন রেজিস্ট্রার ভবনে তালা থাকবে।

এবিষয়ে ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিচার সম্পন্ন করেছি। দীর্ঘ বছরের অমীমাংসিত বিষয় পরিষ্কার করতে কাজ চলছে। ১৯ জন শিক্ষককে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে এবং ৯ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকালও আমরা সারাদিন এই বিষয়ে কাজ করেছি। শিক্ষকদের বিচার অবশ্যই সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে ওসমান হাদি উপর গুলির ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন জাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় এলাকায় শুরু হয়ে মুরাদ চত্ত্বরে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয় । শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলাকে আমরা জুলাই–আগস্টের সব আন্দোলনকারীর ওপর সামগ্রিক হামলা হিসেবে দেখি। ইন্টেরিম সরকারের উদ্দেশে তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

জনপ্রিয়

পাবিপ্রবিতে মাছ ধরা উৎসব বরশী কিনতে দোকানে উপচে পড়া ভিড়

হাদির ওপর গুলির প্রতিবাদে ও জুলাই হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে জাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশিত ১০:৪৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার প্রতিবাদ এবং জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মদদদাতা শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিচারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ভিসির বাসভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন-“তুমি কে, আমি কে-হাদী হাদী”; “গোলামী না আজাদী-আজাদী”; “ইনকিলাব জিন্দাবাদ”; “সন্ত্রাসীদের কালো হাত গুঁড়িয়ে দাও”; “বিচার চাই-জুলাই হামলার বিচার চাই” ইত্যাদি।

মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং পুরো দেশ সহ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতার চিত্র স্পষ্ট করেছে। জুলাই হামলার বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনের উদাসীনতাকে তারা ‘চরম ব্যর্থতা’ বলে উল্লেখ করেন।

মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং জুলাই হামলায় ‘মদদদাতা’ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী বিচারের দাবি জানান। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে অনির্দিষ্টকালের জন্য তালা ঝুলিয়ে দেন। আন্দোলনকারীরা জানান, জুলাই হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলা হবে না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের ফ্রন্টলাইনার শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে। বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি, তারই প্রতিফলন আমরা এই হামলায় দেখছি। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিলাম, তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং পূর্বের ক্ষমতাকাঠামোর অনুসারীরাই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছে—ফলে অস্থিতিশীলতা ও গুপ্ত হামলার পরিবেশ এখনো বজায় আছে।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার একদিন পরই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বে় থাকা ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর দিবালোকে সশস্ত্র হামলা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাশফায়ার উসকানিকারী শিক্ষক গ্রেপ্তার হলেও কিছু গণমাধ্যম ঘটনাটিকে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ১৫ জুলাই জাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার না হওয়াকেও তিনি প্রশাসনের ‘অগ্রহণযোগ্য ব্যর্থতা’ বলে আখ্যায়িত করেন।

প্রশাসনিক (রেজিস্ট্রার) ভবনে তালা দেওয়ার বিষয়ে মাজহারুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের ভেতরে আওয়ামী দোসররা বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে। যতদিন হামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচার না হবে, ততদিন রেজিস্ট্রার ভবনে তালা থাকবে।

এবিষয়ে ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিচার সম্পন্ন করেছি। দীর্ঘ বছরের অমীমাংসিত বিষয় পরিষ্কার করতে কাজ চলছে। ১৯ জন শিক্ষককে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে এবং ৯ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকালও আমরা সারাদিন এই বিষয়ে কাজ করেছি। শিক্ষকদের বিচার অবশ্যই সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে ওসমান হাদি উপর গুলির ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন জাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় এলাকায় শুরু হয়ে মুরাদ চত্ত্বরে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয় । শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলাকে আমরা জুলাই–আগস্টের সব আন্দোলনকারীর ওপর সামগ্রিক হামলা হিসেবে দেখি। ইন্টেরিম সরকারের উদ্দেশে তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।