ঢাকা ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo লাল-সবুজের পতাকা হাতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরলেন সায়মা আনিকা Logo এসএসসির ফল প্রকাশ আজ, ভাঙছে ২০ বছরের রেকর্ড Logo সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু Logo দেশ গঠনে আলেম-ওলামাদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী Logo রুটিনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নাম না থাকায় কবি নজরুল কলেজ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন Logo কবি নজরুল কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত Logo দাম বাড়লো জেট ফুয়েলের Logo রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াত জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি Logo উত্তরায় ‘গ্রিনিং বাংলাদেশ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইবিয়ান ক্লাবের বৃক্ষরোপণ Logo জোর করে বশ্যতা স্বীকার করানোর চেষ্টা প্রতিহত করবে ইরান: পেজেশকিয়ান

মেয়ে সেজে প্রতারণা ও যৌন সহিংসতা, ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ গ্রেপ্তার

  • মোঃ ইমরান হোসেন
  • প্রকাশিত ০২:৩২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৭০ বার পঠিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী সেজে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে ব্ল্যাকমেইল, তারপর যৌন সহিংসতা এমন অভিনব ও নৃশংস কায়দায় অপরাধ করা এক ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’কে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। এর আগে সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে দনিয়া কলেজের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া নারী পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে মিরপুর এলাকার তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে নির্জন বাসায় আটকে যৌন নির্যাতন করতেন এবং তা ভিডিও করে রাখতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে একপর্যায়ে মেট্রো স্টেশনের নিচে দেখা করার কথা বলে তাদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ ও বর্ণমালা স্কুল সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যেতেন। সেখানে তার দুটি নির্দিষ্ট বাসা বা ‘ডেন’ ছিল। দিনের বেলা হলে তিনি ভিকটিমদের এক বাসায় নিতেন এবং রাতে হলে অন্য বাসায়। সেখানে নিয়ে তাদের ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করা হতো। ভিডিও ধারণের পর সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করতেন।

প্রাথমিকভাবে পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচজন ভুক্তভোগীর পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্তে আরও অন্তত ১০টি নতুন অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে এবং ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ এবং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অপরাধগুলো করতেন। উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলোতে একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে সংঘটিত অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।

পুলিশ আরও জানায়, রাশেদুল এতটাই চতুর যে, তিনি তার বর্তমান স্ত্রীকেও একইভাবে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, তার শিকার নারীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এই আসামির মাধ্যমে অন্য কেউ যদি এ ধরনের অপরাধের শিকার হয়ে থাকেন, তবে তাদের পুলিশকে তথ্য দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাশেদুলের স্থায়ী ঠিকানা মুন্সীগঞ্জের পুরান কামারগাঁ এলাকায়। তার বাবার নাম শাহজাহান মল্লিক।

ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, ‘অভিযুক্ত রাশেদুল প্রযুক্তিগতভাবে বেশ দক্ষ। সে ভিকটিমদের ফোন কেড়ে নিত এবং ভিডিও ডিলিট করার কথা বলে বারবার টাকা দাবি করত। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো পরীক্ষা করে প্রায় সবার সঙ্গেই যৌন সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাশেদুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে এবং তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

লাল-সবুজের পতাকা হাতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরলেন সায়মা আনিকা

মেয়ে সেজে প্রতারণা ও যৌন সহিংসতা, ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ গ্রেপ্তার

প্রকাশিত ০২:৩২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী সেজে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে ব্ল্যাকমেইল, তারপর যৌন সহিংসতা এমন অভিনব ও নৃশংস কায়দায় অপরাধ করা এক ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’কে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। এর আগে সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে দনিয়া কলেজের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া নারী পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে মিরপুর এলাকার তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে নির্জন বাসায় আটকে যৌন নির্যাতন করতেন এবং তা ভিডিও করে রাখতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে একপর্যায়ে মেট্রো স্টেশনের নিচে দেখা করার কথা বলে তাদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ ও বর্ণমালা স্কুল সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যেতেন। সেখানে তার দুটি নির্দিষ্ট বাসা বা ‘ডেন’ ছিল। দিনের বেলা হলে তিনি ভিকটিমদের এক বাসায় নিতেন এবং রাতে হলে অন্য বাসায়। সেখানে নিয়ে তাদের ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করা হতো। ভিডিও ধারণের পর সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করতেন।

প্রাথমিকভাবে পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচজন ভুক্তভোগীর পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্তে আরও অন্তত ১০টি নতুন অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে এবং ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ এবং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অপরাধগুলো করতেন। উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলোতে একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে সংঘটিত অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।

পুলিশ আরও জানায়, রাশেদুল এতটাই চতুর যে, তিনি তার বর্তমান স্ত্রীকেও একইভাবে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, তার শিকার নারীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এই আসামির মাধ্যমে অন্য কেউ যদি এ ধরনের অপরাধের শিকার হয়ে থাকেন, তবে তাদের পুলিশকে তথ্য দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাশেদুলের স্থায়ী ঠিকানা মুন্সীগঞ্জের পুরান কামারগাঁ এলাকায়। তার বাবার নাম শাহজাহান মল্লিক।

ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, ‘অভিযুক্ত রাশেদুল প্রযুক্তিগতভাবে বেশ দক্ষ। সে ভিকটিমদের ফোন কেড়ে নিত এবং ভিডিও ডিলিট করার কথা বলে বারবার টাকা দাবি করত। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো পরীক্ষা করে প্রায় সবার সঙ্গেই যৌন সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাশেদুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে এবং তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।