ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ‘আমি জানি না, সে আমাকে কেন মেরেছে’, নিজ বন্ধুর হাতে রক্তাক্ত কুবি শিক্ষার্থী Logo বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের সময়সূচি প্রকাশ করল বিসিবি Logo কোরবানির ঈদে ঘরে বসেই সাশ্রয়ী ও নিরাপদ কেনাকাটার মেগা অফার নিয়ে এলো ‘স্বপ্ন’ Logo খুলনায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার’ বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত Logo স্বপ্ন ফুড কোর্টে লাইভ মিউজিক Logo অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি জাকসুর Logo কুমিল্লাকে বিভাগ করার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর Logo এখন টিভির চার সাংবাদিককে নিয়ে রাতে সিদ্ধান্ত Logo বিশ্বের মানচিত্র থেকে পাকিস্তানকে মুছে ফেলার হুঁশিয়ারি ভারতের Logo দেশপ্রেমিক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে রাষ্ট্র মেরামত করা হবে: তথ্যমন্ত্রী

মেয়ে সেজে প্রতারণা ও যৌন সহিংসতা, ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ গ্রেপ্তার

  • মোঃ ইমরান হোসেন
  • প্রকাশিত ০২:৩২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯৩ বার পঠিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী সেজে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে ব্ল্যাকমেইল, তারপর যৌন সহিংসতা এমন অভিনব ও নৃশংস কায়দায় অপরাধ করা এক ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’কে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। এর আগে সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে দনিয়া কলেজের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া নারী পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে মিরপুর এলাকার তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে নির্জন বাসায় আটকে যৌন নির্যাতন করতেন এবং তা ভিডিও করে রাখতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে একপর্যায়ে মেট্রো স্টেশনের নিচে দেখা করার কথা বলে তাদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ ও বর্ণমালা স্কুল সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যেতেন। সেখানে তার দুটি নির্দিষ্ট বাসা বা ‘ডেন’ ছিল। দিনের বেলা হলে তিনি ভিকটিমদের এক বাসায় নিতেন এবং রাতে হলে অন্য বাসায়। সেখানে নিয়ে তাদের ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করা হতো। ভিডিও ধারণের পর সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করতেন।

প্রাথমিকভাবে পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচজন ভুক্তভোগীর পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্তে আরও অন্তত ১০টি নতুন অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে এবং ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ এবং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অপরাধগুলো করতেন। উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলোতে একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে সংঘটিত অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।

পুলিশ আরও জানায়, রাশেদুল এতটাই চতুর যে, তিনি তার বর্তমান স্ত্রীকেও একইভাবে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, তার শিকার নারীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এই আসামির মাধ্যমে অন্য কেউ যদি এ ধরনের অপরাধের শিকার হয়ে থাকেন, তবে তাদের পুলিশকে তথ্য দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাশেদুলের স্থায়ী ঠিকানা মুন্সীগঞ্জের পুরান কামারগাঁ এলাকায়। তার বাবার নাম শাহজাহান মল্লিক।

ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, ‘অভিযুক্ত রাশেদুল প্রযুক্তিগতভাবে বেশ দক্ষ। সে ভিকটিমদের ফোন কেড়ে নিত এবং ভিডিও ডিলিট করার কথা বলে বারবার টাকা দাবি করত। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো পরীক্ষা করে প্রায় সবার সঙ্গেই যৌন সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাশেদুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে এবং তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

‘আমি জানি না, সে আমাকে কেন মেরেছে’, নিজ বন্ধুর হাতে রক্তাক্ত কুবি শিক্ষার্থী

মেয়ে সেজে প্রতারণা ও যৌন সহিংসতা, ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ গ্রেপ্তার

প্রকাশিত ০২:৩২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী সেজে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে ব্ল্যাকমেইল, তারপর যৌন সহিংসতা এমন অভিনব ও নৃশংস কায়দায় অপরাধ করা এক ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’কে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। এর আগে সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে দনিয়া কলেজের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া নারী পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে মিরপুর এলাকার তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে নির্জন বাসায় আটকে যৌন নির্যাতন করতেন এবং তা ভিডিও করে রাখতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে একপর্যায়ে মেট্রো স্টেশনের নিচে দেখা করার কথা বলে তাদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ ও বর্ণমালা স্কুল সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যেতেন। সেখানে তার দুটি নির্দিষ্ট বাসা বা ‘ডেন’ ছিল। দিনের বেলা হলে তিনি ভিকটিমদের এক বাসায় নিতেন এবং রাতে হলে অন্য বাসায়। সেখানে নিয়ে তাদের ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করা হতো। ভিডিও ধারণের পর সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করতেন।

প্রাথমিকভাবে পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচজন ভুক্তভোগীর পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্তে আরও অন্তত ১০টি নতুন অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে এবং ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ এবং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অপরাধগুলো করতেন। উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলোতে একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে সংঘটিত অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।

পুলিশ আরও জানায়, রাশেদুল এতটাই চতুর যে, তিনি তার বর্তমান স্ত্রীকেও একইভাবে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, তার শিকার নারীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এই আসামির মাধ্যমে অন্য কেউ যদি এ ধরনের অপরাধের শিকার হয়ে থাকেন, তবে তাদের পুলিশকে তথ্য দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাশেদুলের স্থায়ী ঠিকানা মুন্সীগঞ্জের পুরান কামারগাঁ এলাকায়। তার বাবার নাম শাহজাহান মল্লিক।

ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, ‘অভিযুক্ত রাশেদুল প্রযুক্তিগতভাবে বেশ দক্ষ। সে ভিকটিমদের ফোন কেড়ে নিত এবং ভিডিও ডিলিট করার কথা বলে বারবার টাকা দাবি করত। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো পরীক্ষা করে প্রায় সবার সঙ্গেই যৌন সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাশেদুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে এবং তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।