ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কটিয়াদীতে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা: পতাকা ও জার্সি বিক্রির হিড়িক

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা। চলতি বছরের ১১ জুন পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফুটবলের এই বিশ্বমঞ্চের। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ফুটবলপ্রেমীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে অনেকেই অগ্রিম সংগ্রহ করছেন পছন্দের দলের পতাকা ও জার্সি।

সরেজমিনে দেখা যায়, কটিয়াদী বাজারসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার খেলাধুলার সামগ্রীর দোকানগুলোতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের পতাকা ও জার্সি বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, সৌদি আরব ও বাংলাদেশের পতাকা দোকানের সামনে টাঙানো রয়েছে। ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে রঙিন পতাকা ও জার্সিতে সাজানো হয়েছে দোকানগুলো। ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েকদিন আগে থেকেই পতাকা ও জার্সি বিক্রি শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপের সময় যত এগিয়ে আসছে, বিক্রিও ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিভিন্ন আকার ও মানের পতাকা এবং নানা ডিজাইনের জার্সি প্রকারভেদে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

দোকানের কর্মচারী ইব্রাহিম বলেন, “বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে পতাকার চাহিদা বাড়ছে। ফুটবলপ্রেমীরা তাদের পছন্দের দলের জার্সিও কিনছেন। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আর মাত্র ৩ দিন বাকি থাকায় এখন বিক্রি বেশ জমে উঠেছে।”

স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা জানান, বিশ্বকাপকে ঘিরে কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বাড়ি, দোকান ও বিভিন্ন স্থানে প্রিয় দলের পতাকা টাঙানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে পছন্দের দল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও সমর্থনের প্রচারণা।

কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে ভ্যানে করে জার্সি ও পতাকা বিক্রি করছিলেন আবদুল কাদির। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ এলেই আমি এই ব্যবসায় নামি। প্রায় দুই দশক ধরে এই মৌসুমি ব্যবসা করে আসছি।” তিনি আরও জানান, তিনি ৩ ফুটের পতাকা ১০০ টাকা, ৫ ফুটের পতাকা ২৫০ টাকা আর ১০ ফুটের পতাকা ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এ ছাড়া ৫ ফুটের বাংলাদেশের পতাকা বিক্রি করছেন ১৫০ টাকায়। বেচাকেনা নিয়ে আবদুল কাদির বলেন, “ঈদের আগে বিক্রি ভালো ছিল। অনেকেই বাড়িতে যাওয়ার সময় সন্তানদের জন্য জার্সি-পতাকা কিনে নিয়েছেন। এবার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পতাকার চাহিদা বেশি ছিল।” খেলা শুরু হলে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি জানান, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও জার্মানির পতাকাও বিক্রি হচ্ছে।

জার্সিতে নাম লেখার কাজ করা রিয়াদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “সাধারণ জার্সিতে নাম লেখাতে ৫০ টাকা, সাদা স্টিকার দিয়ে লিখতে ১০০ টাকা আর অফিশিয়াল জার্সিতে নাম লেখাতে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। সবচেয়ে বেশি নাম লেখা হচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে। এরপর ব্রাজিল ও পর্তুগালের জার্সিতে।”

বোয়ালিয়া থেকে জার্সি কিনতে আসা মনির হোসেন মাহিন ৮৫০ টাকা দিয়ে আর্জেন্টিনা দলের জার্সি কিনেছেন। তিনি বলেন, “সবকিছুর দামই এখন বেড়েছে। জার্সির দাম কিছুটা বেশি হলেও মানিয়ে নেওয়া যায়। তবে নাম লেখানোর খরচটা তুলনামূলক বেশি মনে হয়েছে।”

জনপ্রিয়

রাজশাহী থেকে সারাদেশে বাস চলাচল শুরু

কটিয়াদীতে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা: পতাকা ও জার্সি বিক্রির হিড়িক

প্রকাশিত ০১:৩৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা। চলতি বছরের ১১ জুন পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফুটবলের এই বিশ্বমঞ্চের। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ফুটবলপ্রেমীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে অনেকেই অগ্রিম সংগ্রহ করছেন পছন্দের দলের পতাকা ও জার্সি।

সরেজমিনে দেখা যায়, কটিয়াদী বাজারসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার খেলাধুলার সামগ্রীর দোকানগুলোতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের পতাকা ও জার্সি বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, সৌদি আরব ও বাংলাদেশের পতাকা দোকানের সামনে টাঙানো রয়েছে। ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে রঙিন পতাকা ও জার্সিতে সাজানো হয়েছে দোকানগুলো। ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েকদিন আগে থেকেই পতাকা ও জার্সি বিক্রি শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপের সময় যত এগিয়ে আসছে, বিক্রিও ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিভিন্ন আকার ও মানের পতাকা এবং নানা ডিজাইনের জার্সি প্রকারভেদে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

দোকানের কর্মচারী ইব্রাহিম বলেন, “বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে পতাকার চাহিদা বাড়ছে। ফুটবলপ্রেমীরা তাদের পছন্দের দলের জার্সিও কিনছেন। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আর মাত্র ৩ দিন বাকি থাকায় এখন বিক্রি বেশ জমে উঠেছে।”

স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা জানান, বিশ্বকাপকে ঘিরে কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বাড়ি, দোকান ও বিভিন্ন স্থানে প্রিয় দলের পতাকা টাঙানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে পছন্দের দল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও সমর্থনের প্রচারণা।

কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে ভ্যানে করে জার্সি ও পতাকা বিক্রি করছিলেন আবদুল কাদির। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ এলেই আমি এই ব্যবসায় নামি। প্রায় দুই দশক ধরে এই মৌসুমি ব্যবসা করে আসছি।” তিনি আরও জানান, তিনি ৩ ফুটের পতাকা ১০০ টাকা, ৫ ফুটের পতাকা ২৫০ টাকা আর ১০ ফুটের পতাকা ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এ ছাড়া ৫ ফুটের বাংলাদেশের পতাকা বিক্রি করছেন ১৫০ টাকায়। বেচাকেনা নিয়ে আবদুল কাদির বলেন, “ঈদের আগে বিক্রি ভালো ছিল। অনেকেই বাড়িতে যাওয়ার সময় সন্তানদের জন্য জার্সি-পতাকা কিনে নিয়েছেন। এবার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পতাকার চাহিদা বেশি ছিল।” খেলা শুরু হলে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি জানান, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও জার্মানির পতাকাও বিক্রি হচ্ছে।

জার্সিতে নাম লেখার কাজ করা রিয়াদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “সাধারণ জার্সিতে নাম লেখাতে ৫০ টাকা, সাদা স্টিকার দিয়ে লিখতে ১০০ টাকা আর অফিশিয়াল জার্সিতে নাম লেখাতে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। সবচেয়ে বেশি নাম লেখা হচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে। এরপর ব্রাজিল ও পর্তুগালের জার্সিতে।”

বোয়ালিয়া থেকে জার্সি কিনতে আসা মনির হোসেন মাহিন ৮৫০ টাকা দিয়ে আর্জেন্টিনা দলের জার্সি কিনেছেন। তিনি বলেন, “সবকিছুর দামই এখন বেড়েছে। জার্সির দাম কিছুটা বেশি হলেও মানিয়ে নেওয়া যায়। তবে নাম লেখানোর খরচটা তুলনামূলক বেশি মনে হয়েছে।”