নাটোর সদর উপজেলায় খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১২) একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মুদি দোকানির বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার শিশুটি বর্তমানে ৩২ সপ্তাহের, অর্থাৎ প্রায় ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মুদি দোকানি ওসমান পাটোয়ারীকে (৫৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা নাটোর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে একই দিন পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওসমানকে গ্রেপ্তার করে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাটোর সদর উপজেলার একটি গ্রামের দরিদ্র হিন্দু পরিবারের সদস্য ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। তার বাবা শহরের একটি দর্জির দোকানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন এবং মা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। পরিবারের সদস্যরা শিক্ষিত না হলেও মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন।
বিদ্যালয়ের পাশেই অবস্থিত ওসমান পাটোয়ারীর মুদি দোকানে বিভিন্ন সময় বিস্কুট, নুডুলস, চকলেটসহ নানা খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। এ বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার সন্দেহ হয়। তিনি বিষয়টি পরিবারকে জানালে শিশুটিকে স্থানীয় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে পরীক্ষা করানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, সে ৩২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বুধবার (১০ জুন) সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা বলেন, শিক্ষার্থীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়। পরে চিকিৎসা পরীক্ষায় তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর বড় বোন জানান, চিকিৎসা পরীক্ষার পর বোনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, ওসমান পাটোয়ারী বিভিন্ন খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে।
তিনি বলেন, আমরা দরিদ্র মানুষ, আর তারা এলাকায় প্রভাবশালী। আমার বোনের জীবনটা নষ্ট হয়ে গেল। আমরা এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।
শিশুটির বাবা বলেন, অনেক আশা ছিল মেয়েটাকে লেখাপড়া করিয়ে বড় মানুষ করব। কিন্তু এই ঘটনার পর এখন তার জীবন নিয়েই শঙ্কায় আছি।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।






















