দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পদ্মার বুকে চলন্ত নৌযানে হানা দিয়েছে একদল সশস্ত্র জলদস্যু।
গত মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী স্পিডবোটে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাত দলের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে লিটন মোল্লা (৩২) নামের এক ব্যবসায়ী গুরুতর জখম হয়েছেন। দুর্বৃত্তরা স্পিডবোটের শক্তিশালী ইঞ্জিন, বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ, নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন লুটে নিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে কয়েকজন গরু ব্যবসায়ীকে চরভদ্রাসনের গোপালপুর ঘাট থেকে দোহারের মৈনট ঘাটে পৌঁছে দিয়ে নিজের নৌযান নিয়ে ফিরছিলেন স্পিডবোটের চালক সঞ্জিত খালাসী (৩৯)। ফেরার পথে ওই বোটে একমাত্র যাত্রী হিসেবে ছিলেন ব্যবসায়ী লিটন মোল্লা। তিনি চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের মৌলভীরচর কারিকরডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকার দোহার উপজেলার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নৌযানটি পদ্মা নদীর স্থানীয় ফারুক মোল্লার চরের কাছাকাছি পৌঁছানো মাত্রই পেছন থেকে একটি ডাবল ইঞ্জিনচালিত স্পিডবোটে চড়ে একদল ডাকাত তাদের ধাওয়া করে। বিপদ আঁচ করতে পেরে চালক সঞ্জিত খালাসী বোটটি দ্রুত নদীর চরে ভিড়িয়ে দেন এবং পাশের ঘন কাশবনের ভেতর আত্মগোপন করে নিজের জীবন রক্ষা করেন। পরে পুলিশ তাঁকে নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করে চরভদ্রাসনে নিয়ে আসে।
এদিকে চালক পালিয়ে গেলেও নৌযানে আটকে পড়া লিটন মোল্লাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে ডাকাত দল। তারা লিটনের কাছ থেকে সমস্ত নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর ডাকাতরা স্পিডবোটের আস্ত ইঞ্জিন ও মূল্যবান যন্ত্রাংশগুলো খুলে নিজেদের বোটে তুলে নেয়। সবশেষে পালিয়ে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তারা লিটনের হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করে। পরবর্তীতে ওই এলাকায় মাছ ধরতে থাকা স্থানীয় জেলেরা নদী থেকে লিটনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। স্থানীয় মাঝিদের মতে, গত ১০ বছরের মধ্যে এই নৌপথে এমন ভয়াবহ ডাকাতির নজির আর দেখা যায়নি, ফলে নদীপথে চলাচলকারীদের মনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ডাকাতির খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই ডাকাত দল মালামাল নিয়ে নদীপথে চম্পট দেয়। ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের হদিস মেলাতে এবং তাদের আইনের আওথায় আনতে পুলিশের জোর তদন্ত ও অভিযান চলছে।






















