ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo নীল নদের কুমিরই কি আটকে দেবে ট্রাম্পের সব নির্মাণ প্রকল্প? Logo শরিয়াহর সঙ্গে সাংঘর্ষিকতার অভিযোগ, সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট Logo স্বল্প পুঁজিতে লড়াই করেও হার বাংলাদেশের Logo সালমান শাহর সঙ্গে কেমন সম্পর্ক ছিল, জানালেন শাবনূর Logo পাড়ার মানুষের ব্যক্তিগত খবর বিক্রি করে দুই বাড়ির মালিক নারী Logo ইন্দোনেশিয়ায় বিমানবন্দরে আটকা ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী Logo মাননীয় স্পিকার, আমার একটা মাত্র বউ: সংসদে আইনমন্ত্রী Logo ফেনীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস উল্টে কাস্টমস কর্মকর্তা নিহত Logo নতুন মোড়কে অধিকতর ক্ষমতায়িত ও জবাবদিহিহীন বাহিনী তৈরির আশঙ্কা টিআইবির Logo ‘যৌনকর্মের পেশা’ বৈধ হলে অপরাধ কমবে, দাবি পুনমের

রিজার্ভ চুরির মামলায় মার্কিন আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে সাইবার হামলার মাধ্যমে চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আদালতে চলমান এই মামলার জন্য এর আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন আইনি প্রতিষ্ঠান ‘কোজেন অ্যান্ড কন্নর’-এর সঙ্গে থাকা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৪৫২তম পর্ষদ সভায় এই চুক্তি বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে চুক্তি বাতিল করা হলেও মামলার কার্যক্রম থেমে থাকছে না এবং বিকল্প হিসেবে নতুন আইনি প্রতিনিধি খোঁজার প্রক্রিয়া চলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হলেও এই মুহূর্তে নতুন কোনো আইনজীবী কিংবা ল ফার্মের নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থ উদ্ধার এবং আইনি লড়াইতে অভিজ্ঞ ও সফল কোনো সংস্থাকে এই মামলার দায়িত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এক সাইবার হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় আট কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়ে যায়। হ্যাকারদের চুরি করা এই বিপুল পরিমাণ অর্থের একটি বিশাল অংশ পরবর্তীতে ফিলিপাইনের বিভিন্ন ক্যাসিনোর মাধ্যমে পাচার করা হয়। হারিয়ে যাওয়া এই অর্থ পুনরুদ্ধার করতে গত কয়েক বছর ধরে ফিলিপাইন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার।

এদিকে, রিজার্ভ চুরির মামলার পাশাপাশি দেশের ব্যাংক খাতের অন্যান্য আলোচিত আইনি কার্যক্রমেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি এস আলম গ্রুপ সম্পর্কিত বিভিন্ন মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্বে পরিবর্তন এনে নতুন আইনজীবী হিসেবে রাগীব রউফ চৌধুরীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ব্যাংক খাতের এই প্রভাবশালী গ্রুপটি ও তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের বিশাল পরিমাণ শেয়ার অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ রয়েছে এবং সম্প্রতি আদালত ওই শেয়ারগুলো অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

জনপ্রিয়

নীল নদের কুমিরই কি আটকে দেবে ট্রাম্পের সব নির্মাণ প্রকল্প?

রিজার্ভ চুরির মামলায় মার্কিন আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল

প্রকাশিত ০৮:১৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে সাইবার হামলার মাধ্যমে চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আদালতে চলমান এই মামলার জন্য এর আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন আইনি প্রতিষ্ঠান ‘কোজেন অ্যান্ড কন্নর’-এর সঙ্গে থাকা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৪৫২তম পর্ষদ সভায় এই চুক্তি বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে চুক্তি বাতিল করা হলেও মামলার কার্যক্রম থেমে থাকছে না এবং বিকল্প হিসেবে নতুন আইনি প্রতিনিধি খোঁজার প্রক্রিয়া চলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হলেও এই মুহূর্তে নতুন কোনো আইনজীবী কিংবা ল ফার্মের নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থ উদ্ধার এবং আইনি লড়াইতে অভিজ্ঞ ও সফল কোনো সংস্থাকে এই মামলার দায়িত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এক সাইবার হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় আট কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়ে যায়। হ্যাকারদের চুরি করা এই বিপুল পরিমাণ অর্থের একটি বিশাল অংশ পরবর্তীতে ফিলিপাইনের বিভিন্ন ক্যাসিনোর মাধ্যমে পাচার করা হয়। হারিয়ে যাওয়া এই অর্থ পুনরুদ্ধার করতে গত কয়েক বছর ধরে ফিলিপাইন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার।

এদিকে, রিজার্ভ চুরির মামলার পাশাপাশি দেশের ব্যাংক খাতের অন্যান্য আলোচিত আইনি কার্যক্রমেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি এস আলম গ্রুপ সম্পর্কিত বিভিন্ন মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্বে পরিবর্তন এনে নতুন আইনজীবী হিসেবে রাগীব রউফ চৌধুরীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ব্যাংক খাতের এই প্রভাবশালী গ্রুপটি ও তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের বিশাল পরিমাণ শেয়ার অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ রয়েছে এবং সম্প্রতি আদালত ওই শেয়ারগুলো অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।