জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হয়েছে দেশের অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ দুটি আইন। আইন দুটি হলো ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬’। দীর্ঘদিনের দাবি ও নানা মহলের আলোচনার পর এই দুটি বিল আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদে পাস করা হয়, যা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই দুটি বিল পাস হওয়ার প্রক্রিয়াটি সব দলের সম্মতিতে সম্পন্ন হয়নি। বিল দুটির নির্দিষ্ট কিছু বিধানের তীব্র বিরোধিতা করে জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট বা বয়কট করেন প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। তাদের মতে, বিলে এমন কিছু ধারা রয়েছে যা নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী এবং এগুলো সংশোধন করা প্রয়োজন ছিল।
আইন প্রণয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সংশোধনী আনার নানা প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা চূড়ান্ত বিলে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন বিলের কিছু ধারা এবং গুম প্রতিরোধের বিধান নিয়ে বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা নিজেদের আপত্তির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। সংসদীয় বিতর্কের এক পর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
সব ধরনের রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও ওয়াকআউটের ঘটনার মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত সংসদীয় প্রক্রিয়া মেনে বিল দুটি পাস হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই আইনগুলোর যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে এবং ভুক্তভোগীরা সঠিক প্রতিকার পাবেন।




































