প্রকৃতির নির্মম আকস্মিকতায় ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দর এলাকায় চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। দেশটির একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থেকে হঠাৎ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটায় বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে লাখ লাখ মানুষ বিভিন্ন টার্মিনালে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে মোট আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয়েছে। আকাশে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ছাই ও ধোঁয়া বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় বিমানবন্দরগুলো এই জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। হঠাৎ করে এমন নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে পূর্বঘোষিত সিডিউল অনুযায়ী গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন সাধারণ যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান না পাওয়ায় বিমানবন্দরে মানুষের ভিড় ও অসন্তোষ বাড়তে থাকে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই আকস্মিক বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। তাদের মধ্যে বহু বিদেশি পর্যটক ও প্রবাসী নাগরিক রয়েছেন যারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সংযোগকারী ফ্লাইট ধরতে বিমানবন্দরে এসেছিলেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো আটকে পড়া যাত্রীদের সাময়িক খাবার ও পানীয় দিয়ে সহায়তার চেষ্টা করলেও আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে না আসায় কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না ফ্লাইটগুলো কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে।
পরিবেশ বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, আগ্নেয়গিরিটির বর্তমান গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত আকাশসীমা ঝুঁকিপূর্ণ থাকতে পারে। তাই নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করার জন্য প্রকৌশলী ও উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আকাশ পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



































