চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় এক কোমলমতি মাদরাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মো. রবিউল হাসান নামের এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদরাসায় কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করে আসছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিকবার শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, এবং স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রবিউল হাসান কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ফৈজানিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের আমজুরহাট এলাকার একটি মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বাজারসংলগ্ন এম আর টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এই অনৈতিক কার্যক্রম চালাতেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত জুলাই ও আগস্ট মাসের বিভিন্ন সময়ে ভোরবেলা সুযোগ বুঝে ওই শিশুশিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রটিকে আবারও যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালালে বিষয়টি ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার জানতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির পরিবার স্থানীয় থানায় বিষয়টি অবহিত করে এবং পুলিশের সহযোগিতা কামনা করে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউল হাসানকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং তাকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর গ্রেফতারকৃত শিক্ষককে যথাযথ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


































