মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেকজান্দ্রিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দোরগোড়ায় সহজে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কায়রোর বাংলাদেশ দূতাবাস। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি শহরটিতে দুই দিনব্যাপী একটি বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় প্রবাসীরা বেশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। আলেকজান্দ্রিয়ার গোল্ডেন স্টারস টেক্সটাইলে আয়োজিত এই শিবিরের মাধ্যমে মূলত রাজধানী কায়রো থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের যাতায়াত ছাড়াই সেবা প্রাপ্তির সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়।
এই বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্পে প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অতীব জরুরি সেবা ও কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে নতুন ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন গ্রহণ, তৈরিকৃত ই-পাসপোর্ট বিতরণ, ট্রাভেল পারমিট ইস্যু, দূতাবাসের বিভিন্ন পত্র প্রদান এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাগজপত্র সত্যায়নের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া দূতাবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত প্রবাসীদের নানা কনস্যুলার জটিলতা ও আইনি বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। নির্ধারিত দুই দিনের কার্যদিবসে সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
দূতাবাসের এমন জনবান্ধব উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করে আলেকজান্দ্রিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, কায়রো পর্যন্ত দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করে সেবা নিতে যাওয়া অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল, যা কর্মব্যস্ত প্রবাসীদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। নিজ এলাকায় এমন ক্যাম্প আয়োজিত হওয়ায় তাদের অর্থ ও সময় উভয়ই সাশ্রয় হয়েছে এবং কর্মঘণ্টা নষ্ট না করেই তারা সেবা পেতে সক্ষম হয়েছেন। প্রবাসীদের সঙ্গে কূটনৈতিক মিশনের দূরত্ব কমিয়ে আনতে এবং সেবাকে আরও কার্যকর করতে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ কায়রো ছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চলে এমন কর্মসূচি নিয়মিত পরিচালনা করে আসছে।
এই বিষয়ে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে জানিয়েছেন যে, প্রবাসীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করাই এই ধরনের আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা সরাসরি শোনা এবং সে অনুযায়ী তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করাই এই ক্যাম্পগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য। স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যদের অভূতপূর্ব সাড়া এবং প্রবাসীদের বাস্তব চাহিদার কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যতেও মিশরের অন্যান্য জনবহুল এলাকায় এমন সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।


































