ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে স্থায়ী হতে বেশির ভাগের ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে Logo পাচার করা অর্থ ফেরাতে হংকংয়ের সঙ্গে চুক্তির খসড়ায় সায় Logo সিলিন্ডার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি Logo প্রাক-অর্থায়ন তহবিল: বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএফআইসির চুক্তি Logo বায়ার্ন ম্যাচের আগে ‘অবিশ্বাস্য’ কেইনকে অভিনন্দন জানালেন সিমেওনে Logo বাদাম বিক্রির জীবন থেকে স্কুলের আঙিনায় ৮ বছরের হাসান Logo গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ Logo রাজধানীতে বসছে আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা Logo কানাডায় যাচ্ছেন শিবলী-নিপা, শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক মঞ্চে পরিবেশনা Logo পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনের সংশোধনে চূড়ান্ত অনুমোদন

ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস তরণী

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে পূর্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া হরিদাস চন্দ্র তরণীকে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রিমান্ড প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা এই প্রতারণা মামলায় দুই দিনের পুলিশি রিমান্ড শেষ হওয়ার পর তাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আদালতের কার্যপ্রণালী শেষে বিচারক তাকে কারাগারে আটক রাখার এই নির্দেশ দেন এবং বিষয়টি পরবর্তীতে আদালতের সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন বিভাগ নিশ্চিত করে। এর আগে গত সপ্তাহে আদালত এই মামলায় আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন, যার ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

চলতি বছরের আগস্ট মাসের শেষভাগে উত্তরা পশ্চিম থানায় ফ্ল্যাট প্রতারণার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করেন এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর কলেজজীবনের বন্ধু ওবাইদুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল এবং ওবাইদুল নিজেকে একটি ডেভেলপার কোম্পানির মালিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে জানিয়ে তারা একটি ফ্ল্যাট কেনাবেচার বিষয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে প্রথম দফায় এবং নির্মাণকাজ শেষের অজুহাতে বিভিন্ন সময়ে বাদীর কাছ থেকে মোট ২৫ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়।

টাকা গ্রহণের পর অভিযুক্তরা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে শুরু করেন এবং টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা শুরু করেন। এই বিষয়ে কথা বলতে বাদী নিকুঞ্জের ওই কার্যালয়ে গেলে সেখানে হরিদাস চন্দ্র তরণীর সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় হরিদাস জানান যে তার কাছে নগদ অর্থ না থাকলেও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে যা তিনি বাদীকে হস্তান্তর করতে পারবেন। হরিদাসের সেই আশ্বাসে ভরসা করে বাদী আরও বড় অংকের টাকা প্রদান করেন। সবমিলিয়ে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধাপে বাদীর নিকট থেকে প্রায় পঁচাত্তর লাখ টাকারও বেশি গ্রহণ করলেও চুক্তি অনুযায়ী কোনো ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেননি।

উল্লেখ্য, এর আগেও হরিদাস চন্দ্র তরণীর বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের অভিযোগে পৃথক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলায় গ্রেফতারের পর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। গাইবান্ধা এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক আইনি ঝামেলা ও গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হয়ে আসছেন।

জনপ্রিয়

যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে স্থায়ী হতে বেশির ভাগের ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে

ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস তরণী

প্রকাশিত ০২:১৬:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে পূর্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া হরিদাস চন্দ্র তরণীকে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রিমান্ড প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা এই প্রতারণা মামলায় দুই দিনের পুলিশি রিমান্ড শেষ হওয়ার পর তাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আদালতের কার্যপ্রণালী শেষে বিচারক তাকে কারাগারে আটক রাখার এই নির্দেশ দেন এবং বিষয়টি পরবর্তীতে আদালতের সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন বিভাগ নিশ্চিত করে। এর আগে গত সপ্তাহে আদালত এই মামলায় আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন, যার ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

চলতি বছরের আগস্ট মাসের শেষভাগে উত্তরা পশ্চিম থানায় ফ্ল্যাট প্রতারণার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করেন এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর কলেজজীবনের বন্ধু ওবাইদুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল এবং ওবাইদুল নিজেকে একটি ডেভেলপার কোম্পানির মালিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে জানিয়ে তারা একটি ফ্ল্যাট কেনাবেচার বিষয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে প্রথম দফায় এবং নির্মাণকাজ শেষের অজুহাতে বিভিন্ন সময়ে বাদীর কাছ থেকে মোট ২৫ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়।

টাকা গ্রহণের পর অভিযুক্তরা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে শুরু করেন এবং টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা শুরু করেন। এই বিষয়ে কথা বলতে বাদী নিকুঞ্জের ওই কার্যালয়ে গেলে সেখানে হরিদাস চন্দ্র তরণীর সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় হরিদাস জানান যে তার কাছে নগদ অর্থ না থাকলেও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে যা তিনি বাদীকে হস্তান্তর করতে পারবেন। হরিদাসের সেই আশ্বাসে ভরসা করে বাদী আরও বড় অংকের টাকা প্রদান করেন। সবমিলিয়ে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধাপে বাদীর নিকট থেকে প্রায় পঁচাত্তর লাখ টাকারও বেশি গ্রহণ করলেও চুক্তি অনুযায়ী কোনো ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেননি।

উল্লেখ্য, এর আগেও হরিদাস চন্দ্র তরণীর বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের অভিযোগে পৃথক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলায় গ্রেফতারের পর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। গাইবান্ধা এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক আইনি ঝামেলা ও গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হয়ে আসছেন।