ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জাতীয় নিরাপত্তা-আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে হতে হবে Logo প্রাসঙ্গিক বিষয়ে ‘অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন’ নয়: জবি শিক্ষার্থীদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo দলের উন্নতিতে আশাবাদী হয়ে উঠছেন মরিনিয়ো Logo বাবা হারানোর শোক সামলে জিপিএ ৫ লিজার, রিয়া হতে চান ব্যাংকার Logo সাজেকে ফের অবরোধ শুরু, তীব্র খাদ্য ও মানবিক সংকট Logo টানা তিন দিনের ছুটিতে যাচ্ছে দেশের স্কুল-কলেজ Logo ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo দেড়শ বছর আগে মানুষের দেহের তাপমাত্রা বেশি ছিল, কিন্তু কেন? Logo মিরপুরে হামলা-সংঘর্ষের মামলায় আসামি সাড়ে ১০ হাজার, গ্রেপ্তার ২২ Logo গাজীপুরে পুলিশের ৩ গাড়িতে আগুন, আহত বিজিবি সদস্য

সাজেকে ফের অবরোধ শুরু, তীব্র খাদ্য ও মানবিক সংকট

সারাদেশ ডেস্ক: রাঙ্গামাটির সাজেকে পাহাড়ি দুটি সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের দ্বাদশ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। গতকালের জন্য অবরোধ কিছুটা শিথিল করা হলেও আজ সকাল থেকে পুনরায় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এই কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। টানা অবরোধের ফলে পুরো সাজেক এলাকায় চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ঘরে খাবার প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবরোধের পাশাপাশি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সাজেকের কলাবুনীয়া ও দূরদুরিছড়ায় জেএসএস এবং ইউপিডিএফের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পাহাড়ি এই দুই গ্রুপের মধ্যে গত দুই দিনে তিন দফায় তীব্র বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে এবং প্রায় এক থেকে দেড় হাজার রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন গোলাগুলির সত্যতা নিশ্চিত করলেও দুর্গম এলাকা হওয়ায় কোনো হতাহতের নির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেননি। সংঘাত ও অবরোধের ফলে গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও রিসোর্ট মালিকরা বিপাকে পড়েছেন।

খাবারের তীব্র সংকটের কারণে স্থানীয় অনেক মানুষ বর্তমানে অনাহারে বা অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে পাহাড়ি উৎপাদিত ফলমূল বা লতাপাতা খেয়ে দিনাতিপাত করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া এলাকায় জরুরি ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পর্যটকদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন যে অবরোধের দ্বাদশ দিন চলছে এবং বেশ কিছু স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক সতর্ক রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

জনপ্রিয়

জাতীয় নিরাপত্তা-আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে হতে হবে

সাজেকে ফের অবরোধ শুরু, তীব্র খাদ্য ও মানবিক সংকট

প্রকাশিত ০৪:০৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

সারাদেশ ডেস্ক: রাঙ্গামাটির সাজেকে পাহাড়ি দুটি সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের দ্বাদশ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। গতকালের জন্য অবরোধ কিছুটা শিথিল করা হলেও আজ সকাল থেকে পুনরায় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এই কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। টানা অবরোধের ফলে পুরো সাজেক এলাকায় চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ঘরে খাবার প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবরোধের পাশাপাশি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সাজেকের কলাবুনীয়া ও দূরদুরিছড়ায় জেএসএস এবং ইউপিডিএফের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পাহাড়ি এই দুই গ্রুপের মধ্যে গত দুই দিনে তিন দফায় তীব্র বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে এবং প্রায় এক থেকে দেড় হাজার রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন গোলাগুলির সত্যতা নিশ্চিত করলেও দুর্গম এলাকা হওয়ায় কোনো হতাহতের নির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেননি। সংঘাত ও অবরোধের ফলে গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও রিসোর্ট মালিকরা বিপাকে পড়েছেন।

খাবারের তীব্র সংকটের কারণে স্থানীয় অনেক মানুষ বর্তমানে অনাহারে বা অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে পাহাড়ি উৎপাদিত ফলমূল বা লতাপাতা খেয়ে দিনাতিপাত করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া এলাকায় জরুরি ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পর্যটকদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন যে অবরোধের দ্বাদশ দিন চলছে এবং বেশ কিছু স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক সতর্ক রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।