পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির সামরিক বাহিনী ও বর্তমান সরকারের মধ্যকার রাজনৈতিক সংকট দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও এই নেতার জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র হ্রাস পায়নি, বরং তাঁর অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁকে জনপরিসর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখার নানা ধরনের কৌশল ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি সত্ত্বেও তাঁর দল তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআইয়ের নেতাকর্মীদের মাঠের সক্রিয়তা কমেনি।
কারাবন্দী নেতার মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে দেশব্যাপী বিশাল বিক্ষোভ ও লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তাঁর দল। এই কর্মসূচি কঠোরভাবে দমন করার প্রস্তুতি হিসেবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বড় বড় কন্টেইনার বসিয়ে যান চলাচল বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি এই আন্দোলন দমনের অংশ হিসেবে ইমরানের দুই বোনসহ তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দেশটির মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতেও ইমরানের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করে তাঁকে পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখ করার অলিখিত নির্দেশ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান বর্তমানে এক গভীর অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যেখানে একদিকে রয়েছে ইমরানের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এবং অন্যদিকে রয়েছে সামরিক বাহিনীর একচ্ছত্র প্রভাব বজায় রাখার অনমনীয় অবস্থান। সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের কাছে ইমরান সামরিক নিয়ন্ত্রিত রাজনীতির একমাত্র বিকল্প হিসেবে গণ্য হন, যা সামরিক শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম উদ্বেগে রেখেছে। ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার সময় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক থাকলেও পরবর্তীতে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্বের জেরে ২০২২ সালে তিনি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং পরবর্তীতে কারাবন্দী হন।
দুর্নীতি থেকে শুরু করে নানা অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হলেও তাঁর দল বরাবরই এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকার দোকানপাট ও যানবাহনে কারাবন্দী ইমরানের ছবি এবং তাঁর কারাবন্দী নম্বর ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের আবেগকে ফুটিয়ে তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর অনুসারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে তাঁর বার্তা সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যা কারাগারে বন্দি রেখেও তাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার সরকারি প্রচেষ্টাকে এক প্রকার ব্যর্থ করে দিচ্ছে।



































