ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সাবেক স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করায় ১৪ বছরের ছেলেকে শ্বাসরোধে খুন করলেন বাবা Logo কোনো পার্টিতে সব বন্ধুকে দাওয়াত না দেওয়া কি অভদ্রতা Logo মেসির শেষ ম্যাচের বিশেষ জার্সির ছবি প্রকাশ Logo ১১৫ অভিযোগের ১১৪টিতেই দোষী ম্যানচেস্টার সিটি Logo হরমুজে মার্কিন লেজার অস্ত্র, নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হচ্ছে মাইক্রোসফটের এক্সবক্স Logo ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটির তদন্তে এখন ডিবি Logo ম্যানচেস্টার সিটি ১১৫টি অভিযোগের ‘অনেকগুলোতেই দোষী সাব্যস্ত’ Logo বাকৃবির ১০ তলা হলে এক বছরেও চালু হয়নি লিফট, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা Logo জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগ: লিগ্যাল অফিসার পদটির কাজ কী? Logo ১০ তলা ভবনে নেই লিফট, সিঁড়িতেই কাটছে বাকৃবি ছাত্রীদের জীবন

সাবেক স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করায় ১৪ বছরের ছেলেকে শ্বাসরোধে খুন করলেন বাবা

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় নিজ সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আদালতের কাছে দোষ স্বীকার করেছেন এক পাষণ্ড পিতা। অভিযুক্ত ইব্রাহীম খলিল আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানান যে, তার সাবেক স্ত্রী অন্যত্রে বিয়ে করায় সেই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা থেকেই তিনি নিজ ১৪ বছর বয়সী সন্তানকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর পূর্বে নিহত মো. নাঈমের মাতা ও পিতার মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকেই কিশোর নাঈম তার নানাবাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া চালিয়ে আসছিল। ইতিমধ্যে তার মা সম্প্রতি পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে বিষয়টি ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি তার জৈবিক পিতা ইব্রাহীম খলিল। তিনি বিষয়টি নিয়ে নানা সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করতে শুরু করেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে নানাবাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিল মাদ্রাসাছাত্র নাঈম। কিন্তু পরদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর তাকে বিছানায় পাওয়া যায়নি এবং খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে দুপুরে বাড়ির কাছের একটি ধানখেতের পাশ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরদিন নিহতের মাতা ও ইব্রাহীমের সাবেক স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে সুবর্ণচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সন্তান হারানোর পর অভিযুক্ত বাবা প্রথমে আত্মগোপনের চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন এবং পরে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পুলিশি ও আদালতের এই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পারিবারিক কলহ ও প্রতিশোধপরায়ণতার এক নির্মম পরিণতির সত্যতা প্রকাশ পায়।

জনপ্রিয়

সাবেক স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করায় ১৪ বছরের ছেলেকে শ্বাসরোধে খুন করলেন বাবা

সাবেক স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করায় ১৪ বছরের ছেলেকে শ্বাসরোধে খুন করলেন বাবা

প্রকাশিত ১০:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় নিজ সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আদালতের কাছে দোষ স্বীকার করেছেন এক পাষণ্ড পিতা। অভিযুক্ত ইব্রাহীম খলিল আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানান যে, তার সাবেক স্ত্রী অন্যত্রে বিয়ে করায় সেই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা থেকেই তিনি নিজ ১৪ বছর বয়সী সন্তানকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর পূর্বে নিহত মো. নাঈমের মাতা ও পিতার মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকেই কিশোর নাঈম তার নানাবাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া চালিয়ে আসছিল। ইতিমধ্যে তার মা সম্প্রতি পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে বিষয়টি ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি তার জৈবিক পিতা ইব্রাহীম খলিল। তিনি বিষয়টি নিয়ে নানা সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করতে শুরু করেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে নানাবাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিল মাদ্রাসাছাত্র নাঈম। কিন্তু পরদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর তাকে বিছানায় পাওয়া যায়নি এবং খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে দুপুরে বাড়ির কাছের একটি ধানখেতের পাশ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরদিন নিহতের মাতা ও ইব্রাহীমের সাবেক স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে সুবর্ণচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সন্তান হারানোর পর অভিযুক্ত বাবা প্রথমে আত্মগোপনের চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন এবং পরে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পুলিশি ও আদালতের এই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পারিবারিক কলহ ও প্রতিশোধপরায়ণতার এক নির্মম পরিণতির সত্যতা প্রকাশ পায়।