জার্মানির বিপক্ষে দীর্ঘদিনের জয়ের খরা কাটিয়ে অবিশ্বাস্য এক সাফল্য তুলে নিয়েছে গ্রিস। ঐতিহ্যগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এর আগে কখনোই জার্মানদের হারাতে পারেনি তারা। তবে সাম্প্রতিক এক ম্যাচে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় গ্রিক ফুটবল দল। ম্যাচের পুরো সময়জুড়ে বল দখল কিংবা আক্রমণে জার্মানরা আধিপত্য বজায় রাখলেও, কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তারা। পক্ষান্তরে, ম্যাচের মূল সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ঠিকই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গ্রিস।
অগসবুর্গে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের শুরু থেকেই খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখেছিল জার্মানি। তারা প্রায় ৭৫ শতাংশ বল নিজেদের পায়ে রাখার পাশাপাশি গোলের উদ্দেশ্যে মোট ১৬টি শট নিয়েছিল। বিশেষ করে কারিম আদেয়েমি ও জোশুয়া কিমিখ বেশ কয়েকটি চমৎকার সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু গ্রিসের অত্যন্ত সুসংহত রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক কোন্সতান্তিনোস জোলাকিসের দৃঢ়তার কারণে জার্মান ফরোয়ার্ডরা কোনো গোল করতে ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধ থেকে শুরু করে দ্বিতীয়ার্ধেও জার্মানদের একের পর এক আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করে গ্রিস।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার প্রায় ১৬ মিনিট আগে আসে সেই বহুকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ডান দিক থেকে আক্রমণ শানিয়ে ডি-বক্সে বল বাড়ান আর্সেনালের উইঙ্গার ক্রিস্টোস জোলিস। সেখান থেকে বল পেয়ে জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স নেমেচাকে কাটিয়ে দারুণ এক নিচু শট নেন কুরবেলিস। সেই শট জোশুয়া কিমিখের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি জালে জড়িয়ে যায় এবং গ্রিস ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এই একটিমাত্র শটই পুরো ম্যাচে জার্মান রক্ষণকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দিতে যথেষ্ট ছিল।
ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি এবং কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামান সার্জ গিন্যাব্রি, অ্যান্তন স্টাখ ও হেনেস বেহরেনসকে। তবে জার্মান আক্রমণভাগ শেষ পর্যন্ত গ্রিক রক্ষণ ভেদ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। এই পরাজয়ের ফলে নেশনস লিগের গ্রুপ এ-টু তে দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে জার্মানি। অন্যদিকে, এই ঐতিহাসিক জয়ে দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে গ্রিস।




































