সম্প্রতি প্রকাশিত দৈনিক সংবাদপত্রের পাতার বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কার্যক্রমে বিএনপি নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার বিভিন্ন তথ্য। রাজধানীতে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পুলিশ প্রশাসনের তৈরি করা এই তালিকায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের এই তালিকায় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ের কিছু নেতার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের কারণে নানা হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এতদিন মুখ খুলতে সাহস পাননি। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসন এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমনের ঘোষণা দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
চাঁদাবাজি ও দখলদারির পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে বেশ কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনাও সংবাদপত্রের শিরোনামে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা এবং জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনা জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এসব হামলা ও বিশৃঙ্খলার পেছনেও নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক বা অপরাধী চক্রের মদদ রয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব ঘটনার প্রতিটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।
সামগ্রিক এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলের ভেতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিকভাবেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। সাধারণ নাগরিকরা আশা করছেন, প্রশাসন রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।




































