ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু: ফুটপাতে মশারির ভেতর বসে প্রতিবাদ ৫ নারীর

সারাদেশ ডেস্ক: ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের চরম ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ফুটপাতে মশারি টানিয়ে অভিনব পন্থায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাঁচ নারী। সম্প্রতি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক গণশুনানিতে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালিত হয়, যেখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ও সিটি করপোরেশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। প্রতিবাদস্থলের পাশে টানানো একটি প্ল্যাকার্ডে ‘মশা বড় নাকি মেয়র বড়?’ এমন প্রশ্ন তুলে নগরবাসীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়। কর্মসূচির আয়োজক হাশমিরা হায়দার চৌধুরীসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারী নারীরা মেয়রের ভূমিকা ও দায়িত্বহীনতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন।

আন্দোলনকারী নারীরা বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিনিয়ত শিশুরা মৃত্যুবরণ করলেও তা রোধে প্রশাসনের কোনো কার্যকর কর্মপরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর উপচে পড়া ভিড় এবং বেড সংকট থাকার কারণে অভিভাবকরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিবাদ চলাকালে সাধারণ পথচারীদের নিয়ে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নগরবাসীর সার্বিক দুর্ভোগ এবং মশা নিধন কার্যক্রমে স্থবিরতার বিষয়টি উঠে আসে।

অন্যদিকে, একই দিনে নগরীর বাকলিয়ায় মশক নিধন সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, বরং এইডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়ে মেয়র জানান, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার রোধ করা অত্যন্ত কঠিন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে রেকর্ড সংখ্যক ১৬ জন মারা গেলেও চলতি মাসে এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া, বছরজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৫৯ জনে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

জনপ্রিয়

সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াতে নতুন সময়সূচি

ডেঙ্গু: ফুটপাতে মশারির ভেতর বসে প্রতিবাদ ৫ নারীর

প্রকাশিত ০২:৩৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সারাদেশ ডেস্ক: ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের চরম ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ফুটপাতে মশারি টানিয়ে অভিনব পন্থায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাঁচ নারী। সম্প্রতি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক গণশুনানিতে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালিত হয়, যেখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ও সিটি করপোরেশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। প্রতিবাদস্থলের পাশে টানানো একটি প্ল্যাকার্ডে ‘মশা বড় নাকি মেয়র বড়?’ এমন প্রশ্ন তুলে নগরবাসীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়। কর্মসূচির আয়োজক হাশমিরা হায়দার চৌধুরীসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারী নারীরা মেয়রের ভূমিকা ও দায়িত্বহীনতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন।

আন্দোলনকারী নারীরা বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিনিয়ত শিশুরা মৃত্যুবরণ করলেও তা রোধে প্রশাসনের কোনো কার্যকর কর্মপরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর উপচে পড়া ভিড় এবং বেড সংকট থাকার কারণে অভিভাবকরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিবাদ চলাকালে সাধারণ পথচারীদের নিয়ে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নগরবাসীর সার্বিক দুর্ভোগ এবং মশা নিধন কার্যক্রমে স্থবিরতার বিষয়টি উঠে আসে।

অন্যদিকে, একই দিনে নগরীর বাকলিয়ায় মশক নিধন সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, বরং এইডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়ে মেয়র জানান, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার রোধ করা অত্যন্ত কঠিন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে রেকর্ড সংখ্যক ১৬ জন মারা গেলেও চলতি মাসে এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া, বছরজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৫৯ জনে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি উদ্বেগজনক করে তুলেছে।