অর্থনীতি ডেস্ক: বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি সম্প্রতি বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের পথচলার ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। ‘অবিচল বিশ্বাসের ৫০ বছর’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীর পুরানা পল্টনে আইএফআইসি টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে এই সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠিত হয়। আনন্দঘন এই আয়োজনে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা একসঙ্গে কেক কাটেন ও গ্রুপ ফটোসেশনে অংশ নেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সারাদেশের শাখা ও উপশাখাগুলোতে নানা আয়োজনে গ্রাহক, শুভানুধ্যায়ী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে র্যালি ও কেক কাটার উৎসব পালিত হয়।
১৯৭৬ সালের ৮ অক্টোবর যাত্রা শুরু করা এই ব্যাংকটি দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের ৩২ দশমিক ৭৫ শতাংশ মালিকানাধীন এই ব্যাংকটি সারাদেশে ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি শাখা ও উপশাখার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। এই বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ২৫ লাখেরও বেশি গ্রাহককে আর্থিক সেবা প্রদান করে আসছে। এছাড়া ৫৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি আমানত নিয়ে ব্যাংকটি দেশের সামগ্রিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. মেহমুদ হোসেন সুশাসন ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন যে দেশের ব্যাংকিং খাতে আইএফআইসির অর্ধশ শতাব্দির পথচলা একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হলেও তা ধরে রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবর্তিত ব্যাংকিং পরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক সেবার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এছাড়া ব্যাংকের চলমান সংস্কার ও আধুনিকায়ন কার্যক্রম সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে তিনি নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
স্বাগত বক্তব্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনসুর মোস্তফা উল্লেখ করেন যে গ্রাহকদের অবিচল বিশ্বাস ও ভালোবাসাই তাদের পাঁচ দশকের পথচলার সবচেয়ে বড় অর্জন। এটি অসংখ্য মানুষের প্রত্যাশা, সম্পর্ক ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এক দীর্ঘ যাত্রার গল্প বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. এবতাদুল ইসলাম, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক কাজী মো. মাহবুব কাশেম এবং নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক মো তারা ব্যাংকের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও স্থায়িত্ব কামনা করেন এবং আগামী দিনগুলোতেও প্রতিষ্ঠানটিকে মানুষের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হিসেবে টিকিয়ে রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।






































