অপরাধ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক পোশাক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তুলে নিয়ে সাড়ে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার বিকালে ইসদাইরের অক্টো অফিস এলাকার নিঝুম সোসাইটির গলি থেকে ৩২ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মো. সাগর হোসেনকে অপহরণ করা হয়। ঘটনার শিকার ওই ব্যবসায়ী ফতুল্লার দেওভোগ নূর মসজিদ এলাকার শরিফ হোসেনের ছেলে এবং পেশায় একজন পোশাক ব্যবসায়ী। অপহৃত হওয়ার পর তাকে একটি কার্যালয়ে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী সাগর হোসেন জানান, রোববার বিকাল পৌনে চারটার দিকে এক বন্ধুর সঙ্গে নিঝুম সোসাইটির গলি দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বন্ধুকেও অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং তাকে একটি প্রাইভেট কারে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে বিসিকের শাসনগাঁও এলাকার ‘এম্প্যায়ার কটন’ নামক একটি কার্যালয়ের ভেতর আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাথারি মারধর করা হয় এবং তার ওপর ছয় ঘণ্টা ধরে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
নির্যাতনের এক পর্যায়ে অপহৃত সাগরের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার দুবাই প্রবাসী ভগ্নিপতি হিরু সিকদারের হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হয়। ওই ফোনকলের মাধ্যমে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে সাড়ে তিন কোটি টাকা দাবি করে। এদিকে সাগরের সঙ্গে থাকা বন্ধু তাকে উদ্ধারের জন্য দ্রুত থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বন্ধুর এই তৎপরতা টের পেয়ে অপহরণকারীরা রাতে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
মুক্তি দেওয়ার সময় অপরাধীরা সাগরের কাছে দাবি করা টাকা পরিশোধ করতে এবং পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানালে তাকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। ছাড়া পাওয়ার পর সাগর রাতেই নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনায় মো. রাইসান রোমান, মো. আতিক, আব্দুস সালামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত রাইসান রোমান মোবাইল ফোনে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিষয়টি সামনাসামনি আলোচনার অনুরোধ জানান এবং অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক তদন্ত আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন যে তারা ইতিমধ্যে একটি লিখিত অভিযোগ হাতে পেয়েছেন। তিনি আরও জানান যে বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজে খতিয়ে দেখছেন এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার তরফ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ন্যক্কারজনক অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।





































