আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলার আশঙ্কা থেকে যুবরাজকে কড়া নিরাপত্তায় একাধিক বাঙ্কারের সুবিধা থাকা রাজপ্রাসাদে দফায় দফায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো স্থানে তার স্থায়ী অবস্থান না রেখে সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রতিনিয়ত স্থানান্তর করা হচ্ছে। বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি বিশেষ বাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত ৬ অক্টোবর একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর থেকে যুবরাজকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি।
সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতিদের চালানো ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ভারতীয়, বাংলাদেশি, মার্কিন, ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। হুতিদের লাগাতার এই হামলার ফলে বিমানবন্দরের টার্মিনালে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। হুতি মুখপাত্র জানিয়েছেন যে সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে তাদের এই আক্রমণ অব্যাহত থাকবে। জবাবে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সলমন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে হামলার মাত্রা অনুযায়ী উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
হুতিদের মুহুর্মুহু হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় শেষের পথে বলে জানা গেছে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য রিয়াদ ইতিমধ্যে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিশরের কাছে জরুরি সামরিক সহায়তা চেয়েছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব হস্তক্ষেপ করার পর থেকে এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। সানা বিমানবন্দরে একটি ইরানি বিমান অবতরণের চেষ্টার সময় সৌদি বাহিনীর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠার পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি শান্ত করতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তেহরান সামরিক আগ্রাসন থেকে বিরত থেকে রাজনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। এছাড়া ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে এই সংঘাত পুরো আরব উপদ্বীপে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে এবং এতে কেবল ইসরায়েল লাভবান হচ্ছে। ভূরাজনৈতিক এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।






































