ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজনৈতিক চাপে মোদি সরকার, দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রধানের পদত্যাগ এবং বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। এই আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মোদি সরকারের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

চলমান ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচক ও বিরোধী দলগুলোর দাবি, এই পদক্ষেপের কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে মুসলিম ভোটাররা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন সমস্ত অনিয়মের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে জানিয়েছে যে মৃত ব্যক্তি ও ভুয়া নিবন্ধন বাদ দিতেই এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে।

বিক্ষোভের সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সংবিধানের কপি হাতে নিয়ে মিছিলে অংশ নেন এবং পরে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে রিট আবেদন করেন। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। মেহভাইশ নামের একজন আন্দোলনকারী জানান, বর্তমান সরকারের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে চলা অন্যায় সহ্য করে এখন তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, বিক্ষোভ দমনের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক সাংবাদিক ও বিরোধী নেতাদের হেনস্তা ও আটকের অভিযোগ উঠেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ভারী ধাতব ব্যারিকেড বসানো হয়। আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস একে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার ওপর নগ্ন আঘাত বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা শিবরাজ সিং চৌহান কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। আন্দোলনকারীরা নির্বাচন কমিশন প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নটিকে নতুন মোড়ে দাঁড় করিয়েছে। বিরোধী দল, শিক্ষার্থী এবং মানবাধিকারকর্মীদের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন মোদি সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আন্দোলন আরও বিস্তৃত হলে তা সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

জামিন পেয়েই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান আইভীর

রাজনৈতিক চাপে মোদি সরকার, দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার

প্রকাশিত ১২:২২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রধানের পদত্যাগ এবং বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। এই আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মোদি সরকারের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

চলমান ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচক ও বিরোধী দলগুলোর দাবি, এই পদক্ষেপের কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে মুসলিম ভোটাররা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন সমস্ত অনিয়মের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে জানিয়েছে যে মৃত ব্যক্তি ও ভুয়া নিবন্ধন বাদ দিতেই এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে।

বিক্ষোভের সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সংবিধানের কপি হাতে নিয়ে মিছিলে অংশ নেন এবং পরে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে রিট আবেদন করেন। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। মেহভাইশ নামের একজন আন্দোলনকারী জানান, বর্তমান সরকারের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে চলা অন্যায় সহ্য করে এখন তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, বিক্ষোভ দমনের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক সাংবাদিক ও বিরোধী নেতাদের হেনস্তা ও আটকের অভিযোগ উঠেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ভারী ধাতব ব্যারিকেড বসানো হয়। আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস একে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার ওপর নগ্ন আঘাত বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা শিবরাজ সিং চৌহান কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। আন্দোলনকারীরা নির্বাচন কমিশন প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নটিকে নতুন মোড়ে দাঁড় করিয়েছে। বিরোধী দল, শিক্ষার্থী এবং মানবাধিকারকর্মীদের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন মোদি সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আন্দোলন আরও বিস্তৃত হলে তা সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।