প্রবাস ডেস্ক: বিদেশে কর্মসংস্থানের পথ সুগম করতে অভিবাসন ব্যয় কমানো, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান এবং প্রবাসী কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিদেশ যাওয়ার জন্য অনেক কর্মী জমি বিক্রি ও ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হন, কিন্তু প্রতারণার শিকার হন। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন যে অভিবাসীরা অতিরিক্ত ব্যয়, অনিশ্চিত চাকরি ও চুক্তি অনুযায়ী বেতন না পাওয়ার মতো সংকটে পড়েন। প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও সক্রিয় ও শ্রমিকবান্ধব হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিটি কর্মী বিদেশযাত্রার আগে যেন তাদের চাকরির চুক্তি, বেতন এবং আইনি অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাকশিল্পকে দেশের অর্থনীতির দুটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক নির্মাণশিল্পের মতো খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। এই চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মী তৈরি করতে হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া নারী অভিবাসীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন রাষ্ট্রপ্রধান।
বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করতে সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত জাতীয় কৌশল গ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। অভিবাসন দশক ঘোষণার প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে সবার ঐক্যের মাধ্যমেই সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। রাষ্ট্রপ্রধান অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে স্মারক তুলে দেন এবং আয়োজক সংস্থার সাফল্য কামনা করেন।






































