ডেস্ক রিপোর্ট: ইলেকট্রিক স্পোর্টস গাড়ির জন্য অগ্রিম অর্থ নেওয়ার দীর্ঘ সময় পর অবশেষে নতুন প্রজন্মের রোডস্টার উন্মোচন করেছে মার্কিন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত স্পেসএক্স টেস্ট সাইট থেকে একটি সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এই গাড়িটি প্রকাশ্যে আনা হয়। উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক, নকশা প্রধান ফ্রাঞ্জ ভন হোলজহাউসেন এবং ভেহিকল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট লার্স মোরাভি। রকেট ও গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই যানটিকে অটোমোবাইল প্রযুক্তির এক ব্যতিক্রমী সংযোজন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
উন্মোচনী অনুষ্ঠানে ইলন মাস্ক নতুন এই স্পোর্টস কারটিকে নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চ প্রকাশ করেন এবং এটিকে একটি পাগলাটে উদ্ভাবন বলে অভিহিত করেন। এই নতুন সংস্করণে স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যা গাড়িটিকে বাতাসে ভেসে থাকতে বা হোভার করতে সহায়তা করবে। দুই আসনবিশিষ্ট এই স্পোর্টস কারটি কেবল এক সেকেন্ডের কম সময়ে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতি তুলতে সক্ষম। প্রদর্শনীতে গাড়িটিকে র্যাম্পে ওপরে উঠিয়ে শূন্যে লাফিয়ে ওঠা এবং মাঝ আকাশে ফ্লিপ করার মতো নান্দনিক কসরত দেখাতে দেখা যায়।
গাড়িটির কারিগরি দিকগুলোতে ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এতে স্টিয়ারিং ইয়োকসহ আধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অবাক করার বিষয় হলো, আসন্ন এই রোডস্টারে টেসলার জনপ্রিয় স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভ ব্যবস্থা বা ফুল সেলফ-ড্রাইভিং প্রযুক্তি রাখা হয়নি। ইলন মাস্ক জানিয়েছেন যে এটিই হবে মানুষের হাতে চালানোর জন্য তৈরি টেসলার সর্বশেষ গাড়ি মডেল। গাড়িটিতে স্বয়ংক্রিয় চালনা ব্যবস্থা না থাকলেও এর গতি ও ব্রেকিং সিস্টেম উন্নত করতে প্রায় ১০টি ছোট রকেট থ্রাস্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রথম এই রোডস্টারের ধারণা সামনে এনেছিল টেসলা এবং সে বছর থেকেই গাড়িটির জন্য অগ্রিম বুকিং শুরু হয়েছিল। নানা কারণে উৎপাদন ও সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা বারবার পেছালেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও চীনের ক্রেতাদের কাছ থেকে এর বুকিং কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে। বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে গাড়িটির ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত সংস্করণের এই বিশেষ মডেলটি টেসলার মূল ব্যবসায়িক আয়ে বা আর্থিক চিত্রে খুব বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না।





































