সারাদেশ ডেস্ক: দুর্গাপূজা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী ঢাকের হাট। দেবী দুর্গার বোধন থেকে বিসর্জন পর্যন্ত পূজার নানা আনুষ্ঠানিকতায় ঢাকের বাদ্য অপরিহার্য হওয়ায় প্রতিবছর এই হাটটি বসে। কটিয়াদী পৌর এলাকার পুরান বাজারে বসা এই হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকি ও পূজারিরা জড়ো হন। বাজনার দক্ষতা ও পরিবেশনা দেখে পূজারিরা নিজেদের পছন্দের ঢাকির দল চুক্তিবদ্ধ করেন।
ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায়ের রাজপ্রাসাদের পূজার জন্য সেরা ঢাকির দল খোঁজার মধ্য দিয়ে এই হাটের প্রচলন শুরু হয়েছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে। পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের যাত্রাঘাটে ঢাকিরা এসে জড়ো হতেন এবং রাজা নিজে বাজনা শুনে দল বাছাই করতেন। কালক্রমে সেই আয়োজন রূপ নিয়েছে বর্তমানের এই বিশাল হাটে। নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ ও হবিগঞ্জ থেকে সাধারণত বেশি ঢাকির দল আসলেও পূজারিরা আসেন কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেট অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে।
তবে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া ও মুঠোফোনে বায়না করার প্রবণতার কারণে এই প্রাচীন হাটের জৌলুশ কিছুটা কমেছে। অনেক পূজারি এখন মুঠোফোনে কথা বলে ও বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দল ঠিক করে থাকেন, পাশাপাশি বেড়েছে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহারের প্রবণতা। এক সময়ে এই হাট থেকে পাঁচ শতাধিক দল চুক্তিবদ্ধ হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা বেশ কমে এসেছে। অনেক সময় আশানুরূপ বায়না না পেয়ে ঢাকিদের খালি হাতেও ফিরতে হয়, যদিও হাট কমিটি তাঁদের যাতায়াত ও খাওয়ার খরচ দিয়ে থাকে।
এত কিছুর পরও অনেক ঢাকি ও পূজারি ঐতিহ্য এবং ভালোলাগার টানে প্রতিবছর এই হাটে ছুটে আসেন। হাটের আয়োজক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মনে করেন, এটি এখন এই অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির নানা মাধ্যম তৈরি হলেও সশরীরে হাটে এসে ঢাকির দল পছন্দ করার এই আনন্দকে পূজার একটি বিশেষ প্রাপ্তি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।





































