ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

হেমন্ত এসে গেছে অজান্তে

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: কবি সুফিয়া কামালের পঙ্ক্তির মতো সবুজ পাতার খামে হলুদ গাঁদা যেন চিঠি লিখে জানিয়ে দেয় হেমন্তের আগমনী বার্তা। শরতের বিদায়ের মধ্য দিয়ে বাংলার ছয় ঋতুর চতুর্থ ঋতু কার্তিক ও অগ্রহায়ণ নিয়ে প্রকৃতিতে শুরু হয়েছে হেমন্তের পথচলা। রাত গভীর হলে ধানের পাতা ও ঘাসের ডগায় শিশির জমার পাশাপাশি ভোরের বাতাসে টের পাওয়া যাচ্ছে শীতের মৃদু আভাস।

হেমন্তের এই পরিবর্তনের ছাপ সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে, যেখানে সন্ধ্যার পর বইছে শীতল বাতাস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩৫ ডিগ্রি এবং রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ থাকলেও খুলনা ও বরিশালসহ উপকূলীয় এলাকায় ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলার মানুষের জীবনে হেমন্তের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে কৃষির ঐতিহ্য, ধান কাটা ও ঘরে তোলার ব্যস্ততা। নতুন ধান তোলার আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি এ সময়ে শুরু হয় নবান্নের আয়োজন এবং গাছিদের খেজুরগাছে কলসি বাঁধার প্রস্তুতি। খাল-বিলে পানি কমে যাওয়ায় জেলেদের জালে ধরা পড়ে নানা ধরনের দেশি মাছ।

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সবজির বাজারেও দেখা মিলেছে আগাম চাষ করা ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিমের মতো শীতকালীন ফসলের। প্রকৃতিতে শিউলি ও কাশফুল আড়ালে যাওয়ার পর বাগানে ফুটতে শুরু করে গাঁদা ও চন্দ্রমল্লিকা ফুল। পাশাপাশি দূরদেশ থেকে উড়ে আসা পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে মাঠ ও জলাভূমি।

জীবনানন্দ দাশের কবিতায় কার্তিকের মাঠের নিস্তব্ধতা যেভাবে ফুটে উঠেছে, তাতে হেমন্ত কেবল একটি ঋতু নয় বরং মানুষের জীবন ও জীবিকার গল্প। ফসলের সঙ্গে মানুষের এই নিবিড় সম্পর্ক এবং প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে হেমন্ত নিঃশব্দে তার ছাপ রেখে যায় বাংলার ঘরে ঘরে।

জনপ্রিয়

দুর্গাপূজা ও বিচ কার্নিভাল ঘিরে কুয়াকাটায় পর্যটকের ভিড়

হেমন্ত এসে গেছে অজান্তে

প্রকাশিত ০৮:২২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: কবি সুফিয়া কামালের পঙ্ক্তির মতো সবুজ পাতার খামে হলুদ গাঁদা যেন চিঠি লিখে জানিয়ে দেয় হেমন্তের আগমনী বার্তা। শরতের বিদায়ের মধ্য দিয়ে বাংলার ছয় ঋতুর চতুর্থ ঋতু কার্তিক ও অগ্রহায়ণ নিয়ে প্রকৃতিতে শুরু হয়েছে হেমন্তের পথচলা। রাত গভীর হলে ধানের পাতা ও ঘাসের ডগায় শিশির জমার পাশাপাশি ভোরের বাতাসে টের পাওয়া যাচ্ছে শীতের মৃদু আভাস।

হেমন্তের এই পরিবর্তনের ছাপ সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে, যেখানে সন্ধ্যার পর বইছে শীতল বাতাস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩৫ ডিগ্রি এবং রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ থাকলেও খুলনা ও বরিশালসহ উপকূলীয় এলাকায় ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলার মানুষের জীবনে হেমন্তের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে কৃষির ঐতিহ্য, ধান কাটা ও ঘরে তোলার ব্যস্ততা। নতুন ধান তোলার আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি এ সময়ে শুরু হয় নবান্নের আয়োজন এবং গাছিদের খেজুরগাছে কলসি বাঁধার প্রস্তুতি। খাল-বিলে পানি কমে যাওয়ায় জেলেদের জালে ধরা পড়ে নানা ধরনের দেশি মাছ।

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সবজির বাজারেও দেখা মিলেছে আগাম চাষ করা ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিমের মতো শীতকালীন ফসলের। প্রকৃতিতে শিউলি ও কাশফুল আড়ালে যাওয়ার পর বাগানে ফুটতে শুরু করে গাঁদা ও চন্দ্রমল্লিকা ফুল। পাশাপাশি দূরদেশ থেকে উড়ে আসা পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে মাঠ ও জলাভূমি।

জীবনানন্দ দাশের কবিতায় কার্তিকের মাঠের নিস্তব্ধতা যেভাবে ফুটে উঠেছে, তাতে হেমন্ত কেবল একটি ঋতু নয় বরং মানুষের জীবন ও জীবিকার গল্প। ফসলের সঙ্গে মানুষের এই নিবিড় সম্পর্ক এবং প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে হেমন্ত নিঃশব্দে তার ছাপ রেখে যায় বাংলার ঘরে ঘরে।