জাতীয় ডেস্ক: চট্টগ্রামের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন যে নাগরিক হিসেবে দেশে সবার অধিকার সমান। শারদীয় দুর্গোৎসবের নবমীর রাতে মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু বলে কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয়। গত ৪০ বছর ধরে এই মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হলেও এই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি সেখানে উপস্থিত হন। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা তাকে স্বাগত জানান এবং অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন যে সেদিন বাঙালিরা জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছিল এবং তখন কেউ কারও ধর্ম দেখেনি। এছাড়া গণতন্ত্র রক্ষা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনেও ছাত্র-জনতা নির্বিশেষে রাজপথে নেমে এসেছিল। রক্তক্ষয়ী সেই আন্দোলনেও আহত বা শহীদদের ধর্মপরিচয় দেখা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন যে হাসপাতালে চিকিৎসাসহ সবক্ষেত্রেই মানুষ পরিচয়ের চেয়ে মানুষ হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে রাজনৈতিক কারণে অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবাসে তিনি নিজেও অন্য দেশের প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি স্বাগত বক্তব্যে ৫ আগস্টের পর বিএনপি নেতৃবৃন্দের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। তিনি অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি চন্দ্রনাথ ধাম জাতীয়করণ, মেধস আশ্রমের উন্নয়ন এবং হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তরের দাবি জানান। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মিথ্যা মামলায় জেলে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে সুবিচার প্রার্থনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে ধর্ম যার যার হলেও রাষ্ট্র সবার জন্য সমান সুযোগ ও আইন নিশ্চিত করবে। ১৯৭১ সালের শহীদ ও জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার স্বপ্নের একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে তিনি দল, মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির দেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।





































