বিনোদন ডেস্ক: মানুষের বৃদ্ধ বয়সের অবসর জীবন এবং পারিবারিক অবক্ষয়ের করুণ চিত্র নিয়ে মঞ্চে ফিরছে নাট্যদল বহুবচনের দর্শকপ্রিয় নাটক ‘অনিকেত সন্ধ্যা’। চন্দন সেনের রচনায় নির্মিত এই নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন আরহাম আলো এবং সার্বিক পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছেন তৌফিকুর রহমান। রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নাটকটির সাতচল্লিশতম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রবীণ মানুষের জীবনের নানা জটিল বাস্তবতা এবং তাদের ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন নিয়েই মূলত এই নাটকের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে।
নাট্যকার ও নির্দেশনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, সমাজের চলমান নানা জাঁতাকলে পড়ে কিভাবে বয়োবৃদ্ধ মানুষের শেষ বয়সটা চরম নিরাপত্তাহীন ও একা হয়ে পড়ে, তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই নাটকে। বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে বার্ধক্য যে অনেক সময় এক নিঃশব্দ অভিশাপের রূপ নেয়, সে বিষয়টিই বারবার সামনে আনা হয়েছে। কর্মজীবন শেষে মানুষের সব দায়িত্ব পালন সমাপ্ত হওয়ার পর পরিবার ও সমাজে তাদের অবমূল্যায়িত হওয়ার দৃশ্যপট এখানে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
নাটকটির নির্দেশক আরহাম আলো বর্তমান সমাজের এই দৈনন্দিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, মানুষের মনের ভেতরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট ও অবহেলার দিকটি সম্পর্কে পুরো সমাজকে সচেতন করে তোলা এই নাটকের মূল লক্ষ্য। প্রবীণদের প্রতি পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো এবং তাদের একটি নিরাপদ শেষ জীবন নিশ্চিত করার বার্তাটিই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান কলাকুশলীরা।
এ ধরনের শিল্পচর্চা ও নাট্যপ্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শক হৃদয়ে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অধিকার ও তাদের মানসিক কষ্টের বিষয়টি গভীরভাবে নাড়া দেবে বলে আশা করা যায়। পারিবারিক বন্ধন যখন দিন দিন আলগা হয়ে আসে, তখন বয়স্ক মানুষের অসহায়ত্ব ও নিঃসঙ্গতা সমাজের জন্য এক গভীর চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ‘অনিকেত সন্ধ্যা’ নাটকটি সেই অচলায়তন ভাঙার তাগিদ দিয়ে দর্শককে নতুন করে ভাবতে শেখায় এবং নাট্যাঙ্গনে এক বিশেষ বার্তা বয়ে আনে।






































