বিনোদন ডেস্ক: নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের ৪৯তম বার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনের বর্ণাঢ্য উৎসব শুরু হয়েছে। ‘৪৯ বছর পূর্তি উৎসব’ নামের এই আয়োজনে মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী রাখা হয়েছে। নাট্যদলের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমিতে এই উৎসবটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত ‘নৃপতি’ নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার একই স্থানে সন্ধ্যা ৬টায় ‘নৃপতি’ নাটকের আরও একটি প্রদর্শনী রাখা হয়েছে। বদরুদ্দোজ্জার নির্দেশনায় নাটকটির এই বিশেষ প্রদর্শনী দর্শকদের মুগ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নাটক প্রদর্শনী ছাড়াও উৎসবের দ্বিতীয় দিনে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সোহেল রানা বয়াতি পরিচালিত ‘নয়া মানুষ’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে। নদীমাতৃক বাংলার প্রান্তিক চরের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও মানবিক সংগ্রাম এই চলচ্চিত্রের মূল বিষয়বস্তু। আ ম ম হাসানুজ্জমানের ‘বেদনার বালুচরে’ উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে মাসুম রেজা চলচ্চিত্রটির সংলাপ ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন।
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন রওনক হাসান, মৌসুমী হামিদ, আশীষ খন্দকার, ঝুনা চৌধুরী, শিখা কর্মকার, নিলুফার ওয়াহিদসহ আরও অনেকে। দলটির সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দোজা দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান যে, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারা আজ ৪৯ বছরে পা রেখেছেন। ‘নান্দনিক চেতনা জাগ্রত হোক, তোমার আমার সবার প্রাণে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে তারা সামনে এগিয়ে যেতে চান। সুস্থ ও সৎ নাট্যচর্চার মাধ্যমে সমাজের সব জটিলতা দূর করে সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখতে চায় দলটি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায় ঐতিহাসিক ও রাজনীতিসচেতন নাট্যমঞ্চায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তাদের প্রথম মঞ্চ প্রযোজনা ছিল ‘আমার সোনার হরিণ চাই’। এরপর দীর্ঘ পথ চলায় দলটি ‘রক্তকরবী’, ‘শাস্তি’, ‘নৃপতি’, ‘ক্লিওপেট্রা’ এবং ‘মহাবিদ্রোহ’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নাটক মঞ্চে এনেছে। দেশের নাট্যাঙ্গনে এই দলের দীর্ঘ সাধনা ও পরিবেশনা শিল্পপ্রেমীদের মাঝে গভীর ছাপ ফেলে আসছে। দুই দিনের এই জমজমাট উৎসবের মধ্য দিয়ে দলটি তাদের ঐতিহ্যবাহী নাট্যচর্চার আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করল।





































