স্বাস্থ্য ডেস্ক: শহুরে ব্যস্ত জীবন এবং ডিজিটাল স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মানুষের মধ্যে মানসিক ক্লান্তি ও চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছু সময় কাটানো। সবুজ ঘাস বা গাছের নিচে কিছুক্ষণ হাঁটলে মন ও শরীর উভয়ই প্রশান্তি লাভ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্বের বিভিন্ন গবেষণায় এখন নিপুণভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকলে শরীরে নানা ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে।
প্রকৃতির জাদুকরী ক্ষমতার নেপথ্যের বৈজ্ঞানিক কারণগুলো বিশ্লেষণ করে গবেষকরা মূলত তিনটি প্রধান তত্ত্বের কথা বলেছেন। মনোযোগ পুনরুদ্ধার তত্ত্ব অনুযায়ী প্রাকৃতিক পরিবেশ মানুষের ক্ষয়ে যাওয়া মনোযোগ, কর্মক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তি পুনরায় সতেজ করে তোলে। এছাড়া স্ট্রেস রিকভারি তত্ত্বের মাধ্যমে জানা যায় যে প্রাকৃতিক পরিবেশ স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে শরীরকে ধকল কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। নিউরোইমেজিং গবেষণায় দেখা গেছে যে সবুজের মাঝে সময় কাটালে রক্তচাপ এবং স্ট্রেস হরমোন সরাসরি কমে যায়।
পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. গ্রেগরি ব্র্যাটম্যান এবং মনস্তত্ত্ববিদ ড. জেমস গ্রস যৌথভাবে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট পথের কথা উল্লেখ করেছেন যার মাধ্যমে প্রকৃতি আবেগ ও মানসিক স্বাস্থ্যকে পুষ্ট করে। মানুষের বিবর্তন ইতিহাসের শুরু থেকেই প্রকৃতির সঙ্গে একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে যা তাকে প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে আসছে। পার্ক বা জলাশয়ের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশ মানুষের ভেতরের নেতিবাচক চিন্তা দূর করে ইতিবাচক আবেগের জন্ম দেয়। এছাড়া গাছপালা থেকে নিঃসৃত যৌগ বাতাসে মিশে প্রদাহবিরোধী হিসেবে কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
মাটিতে হাত দেওয়া বা বনের বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ফলে পরিপ্রাকতন্ত্রে থাকা উপকারী অণুজীব বা মাইক্রোবায়োমের বৈচিত্র্য বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। যারা সবুজ পরিবেশ পরিবেষ্টিত এলাকায় বসবাস করেন বা নিয়মিত পার্কে হাঁটেন, তাদের ঘুমের মান ও সময়কাল উন্নত হয়। সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যায়ামের একঘেয়েমি দূর করে শরীরচর্চাকে আনন্দদায়ক করে তোলে এবং শারীরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি করে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন মানুষ ও প্রকৃতির এই মেলবন্ধনের পেছনে আরও অনেক রহস্য রয়েছে যা নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে।





































