রাজনীতি ডেস্ক: অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ভিডিও ভাইরালের জেরে সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সরকারের অস্বস্তি এড়াতে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজ যাতে আড়ালে না পড়ে, সেজন্যই তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়েন বলে জানিয়েছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সাম্প্রতিক এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও গণমাধ্যম তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচারের প্রস্তুতি নিয়েছিল।
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে ইশরাক উল্লেখ করেন, প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশকে শাস্তি মনে হলেও পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পেরেছেন এটি তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে নেওয়া একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মন্ত্রিসভা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশকে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শ হিসেবে অভিহিত করে তা তৎক্ষণাৎ মেনে নেওয়ার কথা জানান। গেণ্ডারিয়ার রেললাইন এলাকায় অস্ত্র হাতে তার মাদকবিরোধী অভিযানের একাধিক ভিডিও প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।
ওই বিতর্কিত ঘটনার সূত্র ধরে তার বিরুদ্ধে একটি ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন পদত্যাগী এই প্রতিমন্ত্রী। তার দাবি, মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে তার চরিত্রহনন এবং শুভাকাঙ্ক্ষী জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে তাকে সম্পূর্ণ একঘরে করার নীল নকশা করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক জীবন চিরতরে বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা ছিল বলে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঘটনার পেছনে কোনো সুযোগসন্ধানী চক্র জড়িত থাকলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইশরাক হোসেন। নিজেকে বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন বিশ্বস্ত কর্মী উল্লেখ করে তিনি জানান, সংকটময় মুহূর্তে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সবসময় তার সুরক্ষায় পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই সম্পূর্ণ পরিস্থিতিকে কেবল একটি সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট হিসেবে না দেখে সার্বিক ঘটনা মিলিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।



































