জাতীয় ডেস্ক: অল্প বয়সে বিয়ে হলে কিশোরীদের নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ও ক্ষমতা ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল বা ইউএনএফপিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বাল্যবিয়ের শিকার হলে মেয়েদের নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে কিশোরীদের বড় বড় জীবন-সিদ্ধান্ত নেওয়ার পুরো ক্ষমতা পরিবারের বিশেষ করে বাবা-মায়ের হাতে ন্যস্ত থাকে। এর ফলে তাদের ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের সুযোগ কমে যায় এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পথ রুদ্ধ হয়।
বিয়ের পর এই নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে সন্তান ধারণ কিংবা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও জানিয়েছে যে, খুব কম বয়সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মেয়েদের সন্তান জন্মদান পিছিয়ে দেওয়া এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই পরিস্থিতিতে কিশোরীরা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না এবং তাদের ওপর পারিবারিক ও সামাজিক চাপ বজায় থাকে।
পরিবারের এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তাদের চলাফেরা ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়। ইউএনএফপিএ-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাল্যবিয়ের শিকার মেয়েদের প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাও খুবই সীমিত থাকে। তাদের চলাফেরার ওপর বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকায় সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করাও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
ইউএনএফপিএ-এর প্রকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে মেয়েদের বড় জীবন-সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকার বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে এসেছে। এই সংকট উত্তরণে কিশোরীদের জীবনদক্ষতা বৃদ্ধি এবং তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে স্কুলভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে যা বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর প্রভাব রোধে সহায়তা করতে পারে।






































