অপরাধ ডেস্ক: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে পড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী। সাকোয়া ইউনিয়নের গিদালপাড়া এলাকায় একটি সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। নূর-ই আকরাম নামের ওই প্রকৌশলীর কাছ থেকে তল্লাশি চালিয়ে নগদ দেড় লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আটককৃত প্রকৌশলী দাবি করেছেন যে এই অর্থ তার একান্ত ব্যক্তিগত ও নিজস্ব প্রয়োজনের।
স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার একটি পাকা সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী তাদের অভিযোগের বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট দিনে তিনি নির্মাণকাজের এলাকায় উপস্থিত হলে সাধারণ মানুষ বরাদ্দের সঠিক হিসাব ও কাগজপত্র দেখতে চান। এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি সেখান থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং স্থানীয়রা তার পিছু নেন।
একপর্যায়ে জনগণের সাথে ওই কর্মকর্তার কথা কাটাকাটি ও বাদানুবাদ শুরু হয়। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই কর্মকর্তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তল্লাশির সময় তার ব্যাগ থেকে এক লাখ এবং পকেট থেকে আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে উদ্ধার হওয়া অর্থের সঠিক উৎস এবং ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধানের কাজ চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
বোদা উপজেলার মূল প্রকৌশলী মন্তব্য করেছেন যে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কেউ এভাবে এত পরিমাণ নগদ টাকা সাথে রাখতে পারেন না। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থকে সরাসরি ঘুষ হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তদন্তে যদি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






































