ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সম্পর্কে ভালোবাসার পাল্লা কি সমান হওয়া জরুরি? Logo স্টারশিল্ড সচল হলেও ইউক্রেইনের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের দাবি মাস্কের Logo ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে প্রশাসন ‘নিরপেক্ষ নয়’, সেনা মোতায়েন করুন: ইসিকে জামায়াত Logo ‎কুবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা Logo প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে জাপান যাচ্ছেন যারা Logo পাবিপ্রবিতে নেই স্বাস্থ্যবিমা, চিকিৎসা ব্যয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি Logo হাতিয়ায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা সাড়ে ৯ হাজার লিটার পামওয়েল জব্দ Logo সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য: ক্ষমা চাইতে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিস Logo কবে থেকে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু, জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী Logo শাহ আমানতে যাত্রীর কাছ থেকে দেড় কেজি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার

পাবিপ্রবিতে নেই স্বাস্থ্যবিমা, চিকিৎসা ব্যয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা। ফলে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশই তাদের নিজেদেরকেই বহন করতে হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থী পড়তে হচ্ছে চরম আর্থিক চাপে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গুরুতর অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনায় চিকিৎসার জন্য অনেক সময় বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের পরিবার ও ব্যক্তিগত অর্থের ওপর নির্ভর করতে হয়।
‎
‎শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাকেন্দ্র থাকলেও সেখানে সব ধরনের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নেই। ফলে জটিল কোনো শারীরিক সমস্যায় পড়লে তাদের যেতে হয় পাবনা সদর হাসপাতাল বা বেসরকারি  কিংবা  ঢাকা-রাজশাহীসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে। এতে চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াত ও অন্যান্য খরচও বাড়ে।
‎
‎শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আন্তঃবিভাগ ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলোতে মারাত্মক ইনজুরিজনিত কারণে চিকিৎসার জন্য মোটা অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হয়। ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরে যোগাযোগ করে টাকার ব্যবস্থা হলে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়াজনিত কারণে টাকা পেতে দীর্ঘসময় লেগে যায়। এতে আর্থিক সংকটে তাঁদের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যহত হয়।
‎
‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে একসাথে মোটা অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যদি স্বাস্থ্যবিমা বা চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা থাকত, তাহলে শিক্ষার্থীদের পরিবারের ওপর চাপ কিছুটা কমত।
‎
‎আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক শিক্ষার্থীই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে চিকিৎসার খরচ বহন করা তাদের পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালু করা।
‎
‎খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা আছে। তবে, পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প খরচে নির্দিষ্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও  স্বাস্থ্যবিমার আওতায় চিকিৎসা ব্যয়ের সুবিধা চালু করা যেতে পারে।
‎
‎
‎এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবীমা কার্যকর ও কল্যাণকর হলে এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এর ইতিবাচক ফলাফল পরিলক্ষিত হলে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও তা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

জনপ্রিয়

সম্পর্কে ভালোবাসার পাল্লা কি সমান হওয়া জরুরি?

পাবিপ্রবিতে নেই স্বাস্থ্যবিমা, চিকিৎসা ব্যয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

প্রকাশিত ০৭:৩২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা। ফলে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশই তাদের নিজেদেরকেই বহন করতে হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থী পড়তে হচ্ছে চরম আর্থিক চাপে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গুরুতর অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনায় চিকিৎসার জন্য অনেক সময় বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের পরিবার ও ব্যক্তিগত অর্থের ওপর নির্ভর করতে হয়।
‎
‎শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাকেন্দ্র থাকলেও সেখানে সব ধরনের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নেই। ফলে জটিল কোনো শারীরিক সমস্যায় পড়লে তাদের যেতে হয় পাবনা সদর হাসপাতাল বা বেসরকারি  কিংবা  ঢাকা-রাজশাহীসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে। এতে চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াত ও অন্যান্য খরচও বাড়ে।
‎
‎শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আন্তঃবিভাগ ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলোতে মারাত্মক ইনজুরিজনিত কারণে চিকিৎসার জন্য মোটা অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হয়। ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরে যোগাযোগ করে টাকার ব্যবস্থা হলে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়াজনিত কারণে টাকা পেতে দীর্ঘসময় লেগে যায়। এতে আর্থিক সংকটে তাঁদের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যহত হয়।
‎
‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে একসাথে মোটা অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যদি স্বাস্থ্যবিমা বা চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা থাকত, তাহলে শিক্ষার্থীদের পরিবারের ওপর চাপ কিছুটা কমত।
‎
‎আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক শিক্ষার্থীই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে চিকিৎসার খরচ বহন করা তাদের পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালু করা।
‎
‎খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা আছে। তবে, পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প খরচে নির্দিষ্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও  স্বাস্থ্যবিমার আওতায় চিকিৎসা ব্যয়ের সুবিধা চালু করা যেতে পারে।
‎
‎
‎এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবীমা কার্যকর ও কল্যাণকর হলে এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এর ইতিবাচক ফলাফল পরিলক্ষিত হলে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও তা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।