ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

সাজেকে সংকট নিরসনে প্রশাসনের ৩ সদস্যের কমিটি, চতুর্থ দিনেও সড়ক অবরোধ

সারাদেশ ডেস্ক: রাঙামাটির সাজেক অঞ্চলে পাহাড়ের দুটি আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাহাড়ি এই এলাকার উদ্ভূত সংকট সমাধান এবং গত চার দিন ধরে চলা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি মধ্যস্থতা কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাজেকে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে। সকাল দশটায় শুরু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে।

জেলা প্রশাসনের এই সভায় খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের এই মধ্যস্থতা কমিটিতে রয়েছেন সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহসভাপতি ভবতোষ দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা এবং লংগদু হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা কল্যাণ মিত্র চাকমা। কমিটির সদস্যরা শিগগিরই সাজেকের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা চালাবেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে সাজেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাভাবিক পরিবেশ দ্রুত ফিরে আসবে।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া জানান, সাজেক পরিস্থিতি নিয়ে তারা স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, সাজেক এলাকাটি পূর্বে একটি নির্দিষ্ট আঞ্চলিক দলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সম্প্রতি সেখানে নতুন আরেকটি দলের প্রবেশ ঘটেছে। আগের দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় নতুন দলটিকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এই পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের কারণেই মূলত সাজেকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখার জন্য এই সংকট নিরসন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। টানা চার দিন ধরে সড়ক অবরোধ বজায় থাকায় সাজেকমুখী পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। গঠিত নতুন কমিটির আলোচনার মধ্য দিয়ে এই অচলাবস্থা কাটবে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

নগদের মাধ্যমে নভোএয়ারের টিকেট কিনলে ১০% ছাড়

সাজেকে সংকট নিরসনে প্রশাসনের ৩ সদস্যের কমিটি, চতুর্থ দিনেও সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত ০৫:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সারাদেশ ডেস্ক: রাঙামাটির সাজেক অঞ্চলে পাহাড়ের দুটি আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাহাড়ি এই এলাকার উদ্ভূত সংকট সমাধান এবং গত চার দিন ধরে চলা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি মধ্যস্থতা কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাজেকে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে। সকাল দশটায় শুরু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে।

জেলা প্রশাসনের এই সভায় খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের এই মধ্যস্থতা কমিটিতে রয়েছেন সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহসভাপতি ভবতোষ দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা এবং লংগদু হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা কল্যাণ মিত্র চাকমা। কমিটির সদস্যরা শিগগিরই সাজেকের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা চালাবেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে সাজেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাভাবিক পরিবেশ দ্রুত ফিরে আসবে।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া জানান, সাজেক পরিস্থিতি নিয়ে তারা স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, সাজেক এলাকাটি পূর্বে একটি নির্দিষ্ট আঞ্চলিক দলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সম্প্রতি সেখানে নতুন আরেকটি দলের প্রবেশ ঘটেছে। আগের দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় নতুন দলটিকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এই পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের কারণেই মূলত সাজেকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখার জন্য এই সংকট নিরসন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। টানা চার দিন ধরে সড়ক অবরোধ বজায় থাকায় সাজেকমুখী পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। গঠিত নতুন কমিটির আলোচনার মধ্য দিয়ে এই অচলাবস্থা কাটবে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।