লাইফস্টাইল ডেস্ক: চুলের রুক্ষতা দূর করতে, অকালপক্বতা কমাতে এবং চুলে উজ্জ্বলভাব ফিরিয়ে আনতে তেলের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, নারিকেল ও কাঠবাদাম—উভয় তেলই চুল ও মাথার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তবে চুলের প্রকৃতি এবং মাথার ত্বকের সমস্যা অনুযায়ী সঠিক তেল নির্বাচন করা উচিত। কোনো তেলই খুশকি বা সোরিয়াসিসের সরাসরি ওষুধ না হলেও বাহ্যিক স্বাস্থ্য রক্ষায় এদের জুড়ি নেই।
নারিকেল তেলের রাসায়নিক গঠন চুলের গভীরে প্রবেশ করে প্রোটিন ক্ষয় রোধ ও আর্দ্রতা বজায় রাখে। এটি অতিরিক্ত শুষ্ক, কোঁকড়ানো এবং সহজেই ভেঙে যাওয়া চুলের জন্য বেশ উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, নারিকেল তেল মাথার ত্বকের মাইক্রোবায়োম ভালো রাখে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে। এটি নিয়মিত ব্যবহারে চুল নরম, মসৃণ ও জটমুক্ত হয়।
অন্যদিকে, কাঠবাদামের তেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং লিনোলিক অ্যাসিড থাকে যা চুলকে সুরক্ষিত রাখে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, দূষণ ও ফ্রি-র্যাডিক্যালের হাত থেকে চুলকে রক্ষা করে। কাঠবাদামের তেল দিয়ে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং চুল পড়া ও পাতলা হয়ে যাওয়ার সমস্যা কমে।
বিশেষজ্ঞরা চুলের ধরন বুঝে তেল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। নারিকেল তেল শ্যাম্পুর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে, তবে স্ক্যাল্পে ব্রণের প্রবণতা থাকলে এটি দীর্ঘক্ষণ না রাখাই ভালো। কাঠবাদামের তেল বেশ হালকা হওয়ায় এটি ব্যবহারের নিয়মও সহজ।
মাথায় সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, একজিমা বা মারাত্মক সংক্রমণ থাকলে তেল ব্যবহারে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই মাথায় চুলকানি, লালচেভাব বা চামড়া ওঠার মতো জটিলতা থাকলে তেল ব্যবহারের আগে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।




































