ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo শাহ আমানতে যাত্রীর কাছ থেকে দেড় কেজি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার Logo নগদের মাধ্যমে নভোএয়ারের টিকেট কিনলে ১০% ছাড় Logo চুলের যত্নে নারিকেল তেল বনাম কাঠবাদামের তেল Logo হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে নানা তৎপরতা Logo সাজেকে সংকট নিরসনে প্রশাসনের ৩ সদস্যের কমিটি, চতুর্থ দিনেও সড়ক অবরোধ Logo ‘প্রেস্তিয়ান্নি আইনে’ লাল কার্ড দেখলেন নেইমার Logo সাহিত্য পুরস্কার থেকে বাদ যাবে না এআই দিয়ে লেখা বই Logo ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্টমার্টিন Logo আগামী নির্বাচন ‘অবশ্যই’ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo যেখানেই আমূল পরিবর্তন দরকার, সেখানেই বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’: জামায়াত আমির

হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে নানা তৎপরতা

অপরাধ ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, হুমকি, ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিলের মতো ঘটনা ঘটছে। এসব তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল দুর্বল করা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও নানা ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি নওগাঁর মান্দা উপজেলায় মাইকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রচারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ জানিয়েছেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে যা সফল হবে না এবং পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও পরস্পরবিরোধী অভিযোগ। বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল অভিযোগ করেছেন যে, বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে লক্ষ্য করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ তাদের পুরোনো মিত্রদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ মন্তব্য করেছেন যে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা আওয়ামী লীগ ঘটাচ্ছে নাকি সরকারের ভেতর থেকে কেউ করাচ্ছে, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। এছাড়া রাজধানীর মগবাজারে সংগীতশিল্পী ও বিসিবির সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে এবং হাজারীবাগে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। হাজারীবাগের ঘটনায় মামলা করার পর প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অডিও রেকর্ডও পাওয়া গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এবং পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নানাভাবে হুমকি দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। অপরাধীরা ভার্চুয়াল ফোন নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং ভিপিএন ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পূর্ণ আড়াল করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমকে ফোনে হুমকি দেওয়ার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি কামারুম মুনিরা জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রতিটি হুমকির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ডিজিটাল আলামত যাচাইয়ের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চালানো হয়।

রাজধানী ছাড়াও খুলনা এবং আশপাশের জেলাগুলোতে খুন, গুলিবর্ষণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খুলনায় মাত্র চৌদ্দ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থানে গুলিতে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে এবং তেরখাদা উপজেলায় এক স্থানীয় যুবদল নেতাকে লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়। খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিং সুধী সমাবেশে পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির জানান যে, অপরাধীদের দমনে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান চলছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদও উল্লেখ করেছেন যে, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে গুজব ও আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং শত চ্যালেঞ্জের পরও নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক অভিযোগের পাশাপাশি প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রশাসনের কড়া নজরদারির পাশাপাশি সব মহলের দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

জনপ্রিয়

শাহ আমানতে যাত্রীর কাছ থেকে দেড় কেজি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার

হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে নানা তৎপরতা

প্রকাশিত ০৫:৫২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, হুমকি, ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিলের মতো ঘটনা ঘটছে। এসব তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল দুর্বল করা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও নানা ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি নওগাঁর মান্দা উপজেলায় মাইকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রচারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ জানিয়েছেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে যা সফল হবে না এবং পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও পরস্পরবিরোধী অভিযোগ। বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল অভিযোগ করেছেন যে, বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে লক্ষ্য করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ তাদের পুরোনো মিত্রদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ মন্তব্য করেছেন যে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা আওয়ামী লীগ ঘটাচ্ছে নাকি সরকারের ভেতর থেকে কেউ করাচ্ছে, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। এছাড়া রাজধানীর মগবাজারে সংগীতশিল্পী ও বিসিবির সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে এবং হাজারীবাগে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। হাজারীবাগের ঘটনায় মামলা করার পর প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অডিও রেকর্ডও পাওয়া গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এবং পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নানাভাবে হুমকি দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। অপরাধীরা ভার্চুয়াল ফোন নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং ভিপিএন ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পূর্ণ আড়াল করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমকে ফোনে হুমকি দেওয়ার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি কামারুম মুনিরা জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রতিটি হুমকির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ডিজিটাল আলামত যাচাইয়ের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চালানো হয়।

রাজধানী ছাড়াও খুলনা এবং আশপাশের জেলাগুলোতে খুন, গুলিবর্ষণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খুলনায় মাত্র চৌদ্দ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থানে গুলিতে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে এবং তেরখাদা উপজেলায় এক স্থানীয় যুবদল নেতাকে লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়। খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিং সুধী সমাবেশে পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির জানান যে, অপরাধীদের দমনে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান চলছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদও উল্লেখ করেছেন যে, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে গুজব ও আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং শত চ্যালেঞ্জের পরও নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক অভিযোগের পাশাপাশি প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রশাসনের কড়া নজরদারির পাশাপাশি সব মহলের দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।